রাজধানীর বাংলামোটরে জনতা ও পুলিশের ধাওয়ায় পণ্ড হয়ে গেছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিল। শুক্রবার ঝটিকা মিছিল চলাকালে বাংলামোটর ও গুলশান এলাকা থেকে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে পুলিশের অভিযানে মিরপুর এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের আরো ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অফিসের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল বের করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী। সেখান থেকে মিছিল নিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের দিকে যান তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বাংলামোটর এলাকার কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউতে কয়েকজন লোক মিছিল করেছিল।
শুক্রবার জুমার নামাজের পরপর সড়কে যানবাহন ও পথচারীদের উপস্থিতি ছিল খুব কম। ভিডিওতে দেখা যায়, একপর্যায়ে পুলিশের ড্রেস পরা একজন এবং একজন সাধারণ পথচারী ধাওয়া দিলে পালাতে থাকেন মিছিলকারীরা। এ দুজন ধাওয়া করতে করতে কয়েকজন মিছিলকারীকে ধরে ফেলে। অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে যায়।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, বাংলামোটর থেকে ছয়জন গ্রেপ্তার এবং একটি বাইক জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া গুলশান থেকে আরো ছয়জন গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলোÑমাইন উদ্দীন, বিল্লাল হোসেন, রাব্বি, সোহেল হাসান রাফি, আরিফ, নাদিম, শুক্কুর হাওলাদার, শিহাব মুন্সি, জুয়েল, সাদ্দাম মোল্লা, রানা ও নাজমুল।
থানা সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার আসামিরা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় সদস্য। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আইনশৃঙ্খলা বিনষ্টের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীলসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করার মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টায় লিপ্ত ছিল।
মিরপুরে পুলিশের অভিযানে আরো ছয়জন গ্রেপ্তার
মিরপুরে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে মিরপুর মডেল থানাপুলিশ। গত বৃহস্পতিবার পাইকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেনÑপাবনা জেলার সুজানগর পৌর যুবলীগের সভাপতি ও সুজানগর উপজেলা ছাত্রলীগের ভাইস চেয়ারম্যান জুয়েল রানা, চট্টগ্রাম মহানগরের এজিএস ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী আল নোমান সাইফ, চট্টগ্রাম জেলা যুবলীগের সক্রিয় কর্মী জুলহাস, ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ইমন হোসেন খান মানিক, আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী সাগর হোসেন এবং আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী ওহিদুল ইসলাম সুমন।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে হার্ট ফাউন্ডেশনের সামনে অবস্থানকালে গোপন সংবাদ পায় পুলিশ। খবর পাওয়া যায়, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন সদস্য পাইকপাড়া ডি-টাইপ স্টাফ কোয়ার্টারের ১ নম্বর গেটের সামনে জড়ো হয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও নাশকতার পরিকল্পনা করছে এবং সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন মুখোশধারী সদস্য পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মিরপুর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

