শিবির নেতাকে রাতভর নির্যাতন, ৮ বছর পর মামলা

শিবির নেতাকে রাতভর নির্যাতন, ৮ বছর পর মামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে রাতভর নির্যাতন করে মৃত ভেবে ফেলা রাখার ঘটনায় দীর্ঘ ৮ বছর পর হল শাখা ছাত্রলীগ, হল প্রাধ্যক্ষ ও তৎকালীন প্রক্টরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী সাবেক শিবির নেতা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার শাহবাগ থানায় এই মামলা দায়ের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মো. নাজমুল বাশার। মারধরের সময় তিনি শিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সেক্রেটারিয়েট সদস্য ছিলেন।

মামলার এজাহারে তৎকালীন ছাত্রলীগের ২৬ জন নেতাকর্মী, হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদকে আসামি করা হয়।

এজাহারে নাজমুল বাশার উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি ছাত্রলীগের তৎকালীন হল শাখা সভাপতি বরিকুল ইসলাম বাঁধনের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হলের ২২২ নম্বর রুমে ও ৩১৭ নম্বর রুমে কয়েক দফা নির্যাতন করা হয়৷ নির্যাতনের সময় দুই হাত বেঁধে ও চোখ বেঁধে কিল ঘুষি মারাসহ রড-স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানো হয়। এছাড়াও হাতের নখ উপড়ে ফেলার জন্য প্লাস দিয়ে নখ টানা হয় ও হাতে প্লাস দিয়ে বাড়ি দিয়ে হাত থেতলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয় এজাহারে।

এজাহারে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে বলা হয়, আমার দেহ নিস্তেজ হয়ে পরলে আসামীরা আমাকে মৃত মনে করে আনুমানিক রাত ১২.৩০ ঘটিকার দিকে আমাকে হলের গেটে ফেলে রাখে। আমাকে হলের মধ্যে নির্যাতনের বিষয়ে হলের তৎকালীন প্রভোস্ট মফিজুর রহমান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর ড. এ এম আমজাদ অবগত থাকলেও আমাকে আসামিদের নির্যাতন থেকে বাঁচানোর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই। বরং আসামিদেরকে নির্বিঘ্নে নির্যাতন করতে প্রশাসনিক সহায়তা দিয়েছেন, উসকানি দিয়েছেন এবং হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসামিদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছেন। আসামিদের বর্বর নির্যাতনে আমার বাম হাত ও বাম পা ভেঙে যায় এবং শরীরে অসংখ্য জখম হয়।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী শিবির নেতা মো. নাজমুল বাশার বলেন, আমাকে সেদিন রাত ১০টা থেকে নির্যাতন করা শুরু হয়। বারোটার পর আর কোনো হুঁশ ছিল না৷ রাত সাড়ে তিনটার দিকে আমি নিজেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে পাই। এক্সরে রিপোর্টে দেখি আমার বাম পা ও হাত ভেঙে গিয়েছে। আমাকে হল প্রশাসন থেকে বাঁচানোর জন্য কোনো চেষ্টা করা হয়নি। আমি এরপর আর কোনো ক্লাস করতে পারিনি। পরে অনেক অনুরোধ করে শুধু পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমি শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম বলেই আমাকে এমন নির্যাতন করা হয়েছে।

মামলার অগ্রগতির বিষয়ে শাহবাগ থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো: তৌফিক হাসান বলেন, মামলার তদন্তের কাজ চলমান। আমরা আসামিদের খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছি।

এবিষয়ে হলটির তৎকালীন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান বলেন, মারধরের ঘটনাটি সম্পর্কে সেসময় আমি অবগত ছিলাম না। কোনোভাবেই আমার কাছে সেই ঘটনার বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি। দাপ্তরিকভাবেও আমি কিছু জানতে পারিনি। ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারলে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতাম।

মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন: বরিকুল ইসলাম বাঁধন, সজিব হোসেন, সানাউল্লাহ সূর্য, আবু জাফর সোহাগ, সবুজ রেজা, রাকিব হাসান, নাহিদ উকিল জুয়েল, মুনতাসির বিল্লাহ, আল আমিন, শাকিল, আসিফ আলম, রাইয়ান কামাল, আব্দুল কাদের, মৃধা মো. জাহিদুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান পলাশ, আল আমিন, আরিফুল ইসলাম, শেখ জামি, ইরফান চৌধুরী, তানভির আহমেদ শাওন, মুসা, ফয়সাল, রবিউল, আসিফ, তুষার, হাসান। এজাহারে উল্লেখ করা আসামীরা বঙ্গবন্ধু হল শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা-কর্মী।

এমএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন