চাকরিতে জামানতের ব্ল্যাংক চেক দিয়ে এখন মামলার আসামি আফতাব

চাকরিতে জামানতের ব্ল্যাংক চেক দিয়ে এখন মামলার আসামি আফতাব

মো. আফতাব হোসেন। ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে রিজিওনাল সেল্স ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন নেচার অ্যান্ড কেয়ার এগ্রো প্রোডাক্টস লিমিটেড কোম্পানিতে। চাকরির শুরুতে জামানত হিসেবে একটি ব্ল্যাংক চেক, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, এনআইডির কপিসহ বেশ কিছু পেপার জমা দিতে হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

কোম্পানির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ভুক্তভোগী আফতাব বলেন, এই চেকটি তার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুরির অপবাদসহ নানান অভিযোগ তুলে চাকরি থেকে বাদ দেন কোম্পানির মালিক পক্ষ। এতেও তার কোন সমস্যা ছিলনা।কিন্তু কোম্পানির কাছে পাওনা টাকা চাইতে গেলেই বাধে বিপত্তি।

ভুক্তভোগী আফতাব জানান, ২০১৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আমার প্রমোশন হয়। ডিভিশনাল ম্যানেজার হিসেবে আমি যোগদান করে। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আমি চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। ১৫ সালে আমি যখন চাকরিতে যোগদান করি। তখন আমার কাছ থেকে সকল প্রকারের সার্টিফিকেট এনআইডি কার্ডসহ সকল প্রকারের কাগজপত্র প্রদান করি।চাকরিতে যোগদানের শর্তসাপে ইসলাম এগ্রিমেন্ট আমার শ্বশুরকে জামিনদার করানো হয়। এবং একটি ব্যালেন্স চেক দেয়া হয়। যাহার নাম্বার ০০১২২০০০০০২৭১ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক কেশবপুর শাখা।

ঘটনার সূত্রপাত যেখান থেকে: ঘটনার বিবরণী তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমার সঙ্গে যদি ১৮ সালে তাদের সমস্যার কারণে তারা যদি সালিশি বিচার করে। তাহলে ১৮ সালে আমার আবার প্রমোশন হয় কিভাবে? ওরা প্রত্যেকটা কর্মচারির-কর্মকর্তার কাছে থেকে ফাঁকা চেকগ্রহণ করেন। কোম্পানির প্রয়োজনে সকল কর্মচারির-কর্মকর্তারদের কাছে থেকে বিভিন্ন সময় টাকা গ্রহণ করতেন। তার বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের কিছু সুযোগ সুবিধা দিতেন। এমত অবস্থায় আমিও কিছু টাকা প্রদান করি। ২০২১ সালে আমি যখন চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। তখন কোম্পানির কাছে আমার পাওনা টাকা পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ২২ হাজার টাকা। এই টাকা যখন আমি তার কাছে চাইতে যায় তখন বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিতে থাকে। এবং টাকা চাওয়ার কারণে আমার নামে ১৩ লাখ ৮ হাজার ৭০১ টাকা টাকা মামলা দেয়। এজন্য আমি তার নামে একটি মামলা করি রংপুরে। ইচ্ছে করেই টাকার অংকটা বেশি দেয়। পরে মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে বের করেন যে আমি কোম্পানির কাছে থেকে ১৪ লাখ পাই।

আফতাব হোসেন বলেন, শুধু তাই নয় কোম্পানি আমাকে হেনস্তা করতে এখানেই থেমে থাকেনি। কোম্পানির পক্ষ থেকে আমাকে একটি মোটরসাইকেল প্রদান করেন। পরে ১৭ সালে গাড়িটা কোম্পানির কাছ থেকে কিনে নেয়। যার কাগজপত্র আমার কাছে আছে। কিন্তু কোম্পানি আমার নামে মামলা করে। আমি নাকি কোম্পানির গাড়ি চুরি করেছি। কোর্ট মামলাটা খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে তারা আবার আপিল করে। এখনো রংপুরে মামলাটি চলমান।

উল্লেখ, চেকের মামলাসহ একের পর এক মামলা দিতে থাকে ১৩৫২/২২ নম্বর। জামানতের ব্ল্যাংক চেকে ২ কোটি সত্তর লাখ টাকার মামলা দেয় কোম্পানি। মামলায় উল্লেখ থাকে যে, ২০১৯, ২০২০, ২০২১ সালে কোম্পানিতে উক্ত টাকা আফতাব যদি গ্রহণ করে। তাহলে প্রতিবছরের স্টেটমেন্টে আফতাব যে টাকা পায় তাহার ডকুমেন্টস কোম্পানির পেডের পাতায় নিম্নে প্রদান করা হলো- ২০১৯ সালে কোম্পানির সঙ্গে হিসাব আনতে আফতাবের পাওনা -১৮লাখ ৭৩ হাজার ৩৭২ টাকা। ২০২০ সালে কোম্পানির সাব অনুযায়ী আফতাবের পাওনা ২৪ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২১ সালে কোম্পানির হিসাব বুঝায় দেওয়ার সময় আফতাবের পাওনা -১৪ লাখ ২২হাজার টাকা। এতো টাকা পাওনা থাকার পরেও কোম্পানি আফতাবের নামে ২ কোটি ৭০ লআখ ৫১ হাজার ৩৯২ টাকার মামলা দেয়। যাহার মামলা নম্বর ১৩৫২/২২।

আরও উল্লেখ থাকে যে, ২০২১ সালে আফতাবের কাছ থেকে যখন মার্কেট বুঝে নেওয়া হয়। তখন ৩ নম্বর সাক্ষী ও ৪ নম্বর সাক্ষী দুজনই আফতাবের ক্লিয়ারেন্সের স্বাক্ষর করেন। এরপর ও আফতাবের উপর একের পর এক মামলা করতে থাকেন বর্তমানে চারটি মামলা চলমান। ২০২১ সালে কোম্পানির হিসাব বুঝাই দেওয়ার সময় কোম্পানির প্রতিনিধি হিসাবে আফতাবের সঙ্গে হিসাব সমন্বয় করেন ৩ নম্বর সাক্ষী আলী হোসেন রিপন ও ৪ নম্বর সাক্ষী আপেল।

এমন বিস্তর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলে কেটে যেন। বক্তব্য জানতে চেয়ে পাঠানো হয় ক্ষুধেবার্তা তাতেও মেলেনি সাড়া।

এডি/জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন