এনজিও খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর যোগ্য কর্মীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সঙ্গে নিবন্ধিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ২৫০টি এনজিওর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। সভায় বিশেষ করে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য প্রণীত ‘প্রগতি’ স্কিমে এনজিও কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ, অর্থ বিভাগ ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক (যুগ্মসচিব) ড. কে. এম. মামুন উজ্জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ কামরুল হাসান শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন।
সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান সর্বজনীন পেনশন স্কিমের কাঠামো, উদ্দেশ্য ও সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরেন। তিনি এনজিও খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য ‘প্রগতি’ স্কিমের প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করে বলেন, নিয়মিত চাঁদা প্রদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শেষে এ স্কিমের আওতায় আজীবন মাসিক পেনশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
উপস্থাপনায় আরও বলা হয়, সর্বজনীন পেনশন স্কিম দেশের নাগরিকদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত একটি রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বহুজাতিক কোম্পানি এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওসহ বেসরকারি খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য ‘প্রগতি’ স্কিম প্রণয়ন করা হয়েছে।
আলোচনা সভায় এনজিও প্রতিনিধিরা সর্বজনীন পেনশন স্কিম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন এবং উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক (সচিব) ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া এনজিও খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর দেশের বেসরকারি ও এনজিও খাতে কর্মরত ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অধিকতর অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি এনজিওগুলোর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যোগ্য কর্মীদের ‘প্রগতি’ স্কিম সম্পর্কে অবহিত করার পাশাপাশি তাদের স্কিমে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে গণশিক্ষা কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে নারী শিক্ষার প্রসার ও নারীর ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে একটি কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছাবে এবং কেউ পিছিয়ে থাকবে না।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬-এর দ্বিতীয় অধ্যায়ের ‘বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন’ অংশে বেসরকারি খাতে নিয়োজিত ব্যক্তিদের বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পেনশন ফান্ড গঠন’-এর যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বেসরকারি ও এনজিও খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দেশের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো নিজ নিজ কর্মীদের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
সভায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান, এনডিসি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পরে আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সভায় অংশ নেওয়া দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের এ স্কিমের আওতায় আনার বিষয়ে ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


