এসএমই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তাদের সাশ্রয়ী মূল্যে তৈরি পোশাক কারখানার ঝুট কাপড় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করবে উর্মী গ্রুপ। এ লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বৃহস্পতিবার এসএমই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং উর্মী গ্রুপের পক্ষে পরিচালক শামারুখ ফখরুদ্দিন সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারজানা খানসহ এসএমই ফাউন্ডেশন ও উর্মী গ্রুপের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, উর্মী গ্রুপের পক্ষ থেকে এসএমই ফাউন্ডেশন কর্তৃক চিহ্নিত টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস ক্লাস্টারের কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) এবং নারী-উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী টেক্সটাইল সারপ্লাস সামগ্রী ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এসব উপকরণ সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে সার্কুলার অর্থনীতির চর্চা সম্প্রসারণ। টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস উৎপাদনে সৃষ্ট উদ্বৃত্ত ও বর্জ্য, বিশেষ করে ঝুট কাপড়সহ অন্যান্য উপকরণ পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হবে।
এর ফলে সম্পদের অপচয় কমার পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী কাঁচামালের নতুন উৎস তৈরি হবে এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থার প্রসার ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিএমএসএমই ও নারী-উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরিচালনা করবে এসএমই ফাউন্ডেশন ও উর্মী গ্রুপ।
এ কর্মসূচির আওতায় উদ্যোক্তা উন্নয়ন, মেশিন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ, গার্মেন্টস সেলাইসহ প্রয়োজনভিত্তিক বিভিন্ন কারিগরি, ব্যবস্থাপনাগত ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ক্ষেত্রে নারী-উদ্যোক্তা এবং গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ ছাড়া এসএমই ফাউন্ডেশন ও উর্মী গ্রুপ যৌথভাবে জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্মে নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, নেটওয়ার্কিং এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করা হবে।
সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য উভয় প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোসিডিওর (এসওপি) প্রণয়ন করবে। এতে সহযোগিতার আওতাভুক্ত ক্লাস্টার, উদ্যোক্তার সংখ্যা, কার্যক্রমের ধরন এবং বিশেষ করে নারী-উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়নের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে।
পাশাপাশি কার্যক্রমের অগ্রগতি ও প্রভাব মূল্যায়নের জন্য উভয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে যৌথ মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
এ সমঝোতা বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতের বৃহৎ শিল্পের সঙ্গে ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সংযোগ জোরদার, স্থানীয় সাপ্লাই চেইন শক্তিশালীকরণ এবং টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নারী-উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি এবং তাঁদের মূলধারার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার পথ সুগম হবে।
অনুষ্ঠানে এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, সমঝোতা স্মারকের আওতায় গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের সম্ভাবনাময় ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং নারী-উদ্যোক্তাদের ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতের সাপ্লাই চেইনের সঙ্গে এসব উদ্যোক্তাদের অধিকতর সম্পৃক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) প্রতিষ্ঠান।
শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে। এ খাতে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি জনবল কর্মরত রয়েছে।
অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সুরক্ষার মাধ্যমে এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন সরকারের জাতীয় শিল্পনীতি, এসএমই নীতিমালা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী হয়েছেন প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই নারী-উদ্যোক্তা।
নতুন এ সমঝোতার মাধ্যমে টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতের বৃহৎ শিল্পের উদ্বৃত্ত উপকরণ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাজে লাগানো, উৎপাদন ব্যয় কমানো, দক্ষতা বাড়ানো এবং বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি নারী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


