আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আইআইইউসি’র ১৮ তম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধন

জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলোকে গবেষণায় গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে: ঢাবি ভিসি

আমার দেশ অনলাইন

জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলোকে গবেষণায় গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে: ঢাবি ভিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেছেন, জাতীয় চ্যালেঞ্জগুলোকে গবেষণায় গুরুত্বের সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাতে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশ ইতিহাসের একটি কঠিন বাঁক অতিক্রম করছে, যেখানে আমাদের যুবসমাজ ও নারীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গবেষণা খুব সীমিত। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এই বিষয়ে গবেষণায় ফোকাস করা হলেও আমরা সুবিচার করতে পারিনি। ফলে এ বিষয়ে গবেষণা ও একাডেমিক আলোচনা বাড়ানো জরুরি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, জিডিপি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে দেশ তুলনামূলকভাবে সফল হলেও, সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে আমরা এখনো সক্ষম হয়নি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতকে কীভাবে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে ভাবতে হবে আমাদের। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়িক উদ্ভাবনে এই এসএমই খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে আমাদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূচনা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে কুমিরাস্থ স্থায়ী ক্যাম্পাসে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের বিজনেস ইনোভেশন ফর ইনক্লুসিভ ডেভলাপমেন্ট এর ২য় এবং আইআইইউসি’র ১৮তম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান কথাগুলো বলেন।

ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ও গবেষণা ও প্রকাশনা কেন্দ্রের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বিজনেস ইনোভেশন ফর ইনক্লুসিভ ডেভলাপমেন্ট’ শীর্ষক দু’দিনব্যাপী এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইআইইউসি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন আইআইইউসি’র ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বিজনেস ইনোভেশন ফর ইনক্লুসিভ ডেভলাপমেন্ট অর্গানাইজিং কমিটির চেয়ার এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আকতারুজ্জামান খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি সামাজিক ব্যবসা এবং জাতিসংঘের একাধিক টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশের শেখার অনেক সুযোগ রয়েছে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা আমাদের নীতিনির্ধারণে সহায়ক হতে পারে। সরকার গঠনমূলক ও বাস্তবভিত্তিক মতামত শুনতে আগ্রহী বলেও তিনি মন্তব্য করেন। আয়োজকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সম্মেলনের আলোচনার ভিত্তিতে সংক্ষিপ্ত সুপারিশমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে, যা সহজ ভাষায় প্রকাশ করলে তা সাধারণ মানুষের কাছেও পৌঁছাবে। এ ছাড়া তিনি গবেষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। উপস্থাপিত গবেষণাপত্রগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণায় রূপ নেবে এবং এই সম্মেলনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসি’র ট্রেজারার প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা একটা ব্যাপক বৈপ্লবিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে বসবাস করছি। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি, ডিজিটাল বিশৃংখলা, আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ এবং আর্থ-সামাজিক অসমতার বিস্তৃতি আমাদেরকে প্রথাগত বিজনেস মডেল নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আমরা বিশ্বাস করি, আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা, একাডেমিক নৈপুণ্য এবং সামজিক দায়িত্বশীলতার অগ্রযাত্রা সমন্বিত ঐক্যের সাথে হওয়া উচিত। তিনি বলেন, গবেষণা-সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করা এবং তরুণ গবেষকদের পাশে দাাঁড়ানোর জন্য আইআইইউসি অঙ্গীকারাবদ্ধ।

সভাপতির বক্তব্যে আইআইইউসি‘র ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদী বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ব্যবসায় শিক্ষা এবং গবেষণা নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়িত্ব, উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের আলোকে পরিচালিত হওয়া উচিত। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যবসায় খাতে উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণার বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আইআইইউসি এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে শিক্ষার্থীরা পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ভবিষ্যতে এমন নেতৃত্ব তৈরি করা, যারা একদিকে আধুনিক জ্ঞান ও পেশাদারিত্বে দক্ষ হবে, অন্যদিকে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ অটুট রেখে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ব্যবসায় খাতে উদ্ভাবনী চিন্তা ও গবেষণার বিকল্প নেই। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আইআইইউসি এমন এক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে শিক্ষার্থীরা পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ভবিষ্যতে এমন নেতৃত্ব তৈরি করা, যারা একদিকে আধুনিক জ্ঞান ও পেশাদারিত্বে দক্ষ হবে, অন্যদিকে নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ অটুট রেখে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

কনফারেন্সে গতকালের প্লেনারি সেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কানাডা কেপবৃটন ইউনিভার্সিটি’র সাবেক শিক্ষক এবং ইন্দোনেশিয়ার ত্রিশক্তি ইউনিভার্সিটির এডজান্ক্ট প্রফেসর ড. মাসুদুল আলম চৌধুরী, ইউনিভার্সিটি সেইন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার অর্থনীতি ও মুআমালাত অনুষদের প্রফেসর দাতো ড. মুস্তাফা বিন মোহাম্মদ হানিফাহ এবং পাকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব সারগোধা’র প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মাসুদ সরওয়ার আওয়ান। আজ আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও প্রকাশনা সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ এবং ইউনিভার্সিটি সায়েন্স ইসলাম মালয়েশিয়ার লিডারশিপ ও ম্যানেজমেন্ট অনুষদের সহকারী ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. নূরহায়াতি রাফিদা আবদুল রহিম।

উল্লেখ্য ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়, ইন্দোনেশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, বাহরাইন ও ফিলিপাইনসহ ৮টি দেশের ১১ টি বিশ্ববিদ্যালয় এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সের কো-অর্গানাইজার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বনামখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ১৭২ জন গবেষক-প্রতিনিধি এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করছেন। কনফারেন্সে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ১৬৫টি গবেষণা প্রবন্ধ জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ১১৪টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪টি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬টি, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি, নন-ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউটের ১টি, ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউটের ১টি এবং একটি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা প্রবন্ধ কনফারেন্সে উপস্থাপিত হবে। এই ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সে মোট ২৩ টি একাডেমিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে দেশ-বিদেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও পণ্ডিতগণ প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করবেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধার অতিথি থাকবেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, সীকো ফাউন্ডেশনের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং এ. কে. খান ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি সেক্রেটারি সালাহউদ্দিন কাসেম খান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন