রাজধানীর লালবাগের আজিমপুর এলাকায় আইডিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ হত্যা মামলায় ঢাকা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম জি.এম ফারহান ইশতিয়াক এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক সাজ্জাদ হোসেন ৩১ জুলাই সোলায়মান সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত তার উপস্থিতিতে শুনানির দিন সোমবার ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন আদালত বলেন,গত ২৮ জুলাই একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে কোটা আন্দোলন নিয়ে যা ঘটেছিলো রাজধানীর আজিমপুরে' একটি ভিডিও প্রচারিত হয়। ওই ভিডিও'র ১ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড এবং ৩ মিনিট ২ সেকেন্ডের সময় আসামিকে সশস্ত্র অবস্থায় ঘটনাস্থলে দেখা যায়। পুলিশের সাথে অবস্থান নিয়ে তিনি হামলায় অংশগ্রহণ করেন। হত্যাকাণ্ডে কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, সেই অস্ত্র উদ্ধার, কারা কারা ঘটনার সাথে জড়িত নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করছি।'
রাষ্ট্রপক্ষে শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এরকম একটা ভিডিও পাওয়া গেছে। যেটা অরিজিনাল ভিডিও। অস্ত্র হাতে তাকে গুলি করতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সঙ্গীদের দিক নির্দেশনা দেন। গুরুত্বপূর্ণ আসামি সোলায়মান সেলিম। আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করার কমান্ডে ছিলেন তিনি। তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।'
সোলায়মান সেলিমের পক্ষে তার আইনজীবী একেএম শাহনেওয়াজ রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিনি বলেন,'হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করছি। তিনি কোনোভাবে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত নন। ইতিপূর্বে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে কোনো কিছু পাইনি। প্রয়োজনে তাকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। তার রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করছি।'
শুনানি শেষে তার তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেন।
খালিদ সাইফুল্লাহ হত্যা মামলায় অভিযোগ, গত বছর ১৮ জুলাই আন্দোলনের সময় লালবাগের আজিমপুর সরকারি আবাসিক এলাকায় আইডিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় তার বাবা কামরুল হাসান বাদী হয়ে ১৯ আগস্ট লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়। এর আগে গত বছরের ২৭ নভেম্বর এ মামলায় তাকে চারদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।
এদিকে জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক মামলায় ঢাকার মিরপুর থানার হত্যা এবং অস্ত্র মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এছাড়াও সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে দুই হত্যা মামলায় এবং একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

