সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকসহ বিচার বিভাগে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ দোসরদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে সুপ্রিম কোর্টসহ সারা দেশের আদালতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার সারা দেশের আদালতে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
রোববার সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, খায়রুল হকের কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে খায়রুল হকের মতো কোনো বিচারপতি তৈরি না হন। তার বিচার দাবিতে প্রয়োজনে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণাকারী বিচারপতিও বহালতবিয়তে রয়েছেন। অথচ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটা ছিল তাদের প্রত্যেকের সাংবিধানিক অধিকার। আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনি বৈতরণী পার করানোই ছিল এসব বিচারপতির মূল উদ্দেশ্য। পৃথিবীর সব সভ্য দেশে কোনো নাগরিকেরই বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয় না। অথচ এই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একাধিক বিচারপতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যে কোনো ধরনের বক্তব্য মিডিয়ায় প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন। অতীতে সুপ্রিম কোর্টের এজলাস ভাঙচুর, প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথি মেরেছে- এমন নির্লজ্জ দলীয় ক্যাডাররাও বিচারপতি হিসেবে বহাল রয়েছেন এখনো।
অবিলম্বে উচ্চ আদালত এবং নিম্ন আদালতে ফ্যাসিবাদের দোসর ও চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ আর দলবাজ বিচারকদের অপসারণের দাবি জানান জয়নুল আবেদীন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্টের দোসর ও দুর্নীতিগ্রস্ত ১২ বিচারপতিকে বিচারকার্য হতে বিরত রাখা হয়েছে। আমরা এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম।
দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ধ্বংসের মূল কারিগর সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের কঠোর বিচার নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংসের মূল কারিগর সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। অজ্ঞাত কারণে এখনো তাকে গ্রেপ্তার বা বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। অথচ তার বিচার বাংলাদেশের জনগণের গণদাবি। এক্ষেত্রে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগই এখন পর্যন্ত নেয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল, ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার আহ্বায়ক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট গাজী তৌহিদুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন, অ্যাডভোকেট মো. মাকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান রায়হান বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

