ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. হাসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মামলায় এম এ সবুর আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে সময়ের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নামঞ্জুর করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ মামলায় সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রীসহ মোট ৩৬ জন আসামি রয়েছেন। দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করে তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর ও পরে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়।
এর আগে গত ১৭ মে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চ এম এ সবুরকে আট সপ্তাহের মধ্যে চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ মহানগর বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। আজ বুধবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করার কথা থাকলেও তিনি আদালতে আসেননি।
দুদকের দাবি, হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করার সময় মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল হয়নি বলে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে এর আগেই গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মশিউর রহমান ৩৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ওই অভিযোগপত্রে ইউসিবির সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুরকে আসামি করা হয়। বিচারকাজ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ৩৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
দুদকের পিপি মোকাররম হোসাইন বলেন, অভিযোগপত্র দাখিলের তথ্য গোপন করে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিনের আদেশ নেওয়া হয়েছিল। অথচ অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলায় অভিযোগও গঠন হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ৩৬ আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন করা হয়। পরে কর্মচারীদের মাধ্যমে ওই অর্থ উত্তোলন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


