ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বেআইনি, মাদক মামলার ২ আসামির জামিন বাতিল

ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বেআইনি, মাদক মামলার ২ আসামির জামিন বাতিল

নতুন মাদক ট্রামাডল সহ গ্রেপ্তার দুই আসামিকে হাজিরের পর প্রথম দিনেই তাদের জামিন দেন ঢাকার সিএমএম আদালত। মাদক মামলার ওই দুই আসামির জামিন বাতিল করেছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত উল্লেখ করেন, জামিন মঞ্জুর করা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ অস্বচ্ছ ও বেআইনি। তারা এফআইআর নামীয় আসামি ও তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। তারা ঘটনাস্থল হতে হাতেনাতে বিপুল সংখ্যক মাদক ও চোরাচালানকৃত ক্ষতিকর ওষুধসহ ধরা পড়েন। তারা মাত্র একদিন আগে ধরা পড়েন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর৷ তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হলে পলাতক হওয়ার ও সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রভাবিত করতে পারেন। উপরোক্ত বিষয় ও অবস্থাধীন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছি যে বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট আদেশ দানের ক্ষেত্রে ভুল করেছেন এবং এখতিয়ার বহির্ভূত হস্তক্ষেপ করেছেন।

তাই এই দুুই আসামির জামিন বাতিল করা হলো। তাদের দু'জনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে বলে আদেশে উল্লেখ করেছে আদালত।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার বলেন, গ্রেপ্তারের পরদিন মাদক মামলায় দুই আসামির জামিন পাওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়। এরপর জামিনের আদেশের যথার্থতা ও আইনগত ভিত্তি যাচাইয়ের জন্য মামলার নথি তলব করেন আদালত। ওই দুই আসামির জামিন অস্বচ্ছ ও বেআইনি হওয়ায় তাদের জামিন বাতিল করেন আদালত। একই সাথে আগামি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আদেশ দেন বিচারক।

এর আগে গত ১৯ আগস্ট গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে হাজিরের দিনই অস্বাভাবিকভাবে ওই দুই আসামি জামিন পান। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ তাদের এই জামিন মঞ্জুর করেছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর গুলশানের মাদানী অ্যাভিনিউ থেকে মো. তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই দিনই সকালে ঢাকার গ্রিন রোডের বাইতুল লাজ নামের একটি ভবনের চতুর্থ তলায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থানরত উজ্জ্বল মিয়া দরজা খুলে দেন। পরে সেখান থেকে প্রায় দেড় লাখ ট্রামাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

মাদক উদ্ধারের এ ঘটনায় ১৮ আগস্ট কলাবাগান থানায় মামলা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ওইদিন পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে সংস্থাটি। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ তাদের জামিনের আদেশ দেন। এরপর ওইদিন বিকেলেই কারামুক্ত হন তারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন