হাজারীবাগ থানার মানবপাচার মামলায় এনএসআই এর তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের মূলহোতা ও ৪ জন সহযোগীসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-২ ও পুলিশের যৌথ টিম। গ্রেপ্তাররা হলো-আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্রের মূলহোতা আমিনুল ইসলাম (৪৬) ও ৪ জন সহযোগী আব্দুল হাকিম (৫৬), মো. নূর ইসলাম (৩১), আসাদুজ্জামান (৩৫), মো. শাহরিয়ার শেখ মুরাদ(৪২)। উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নং সেক্টর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার র্যাবের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, ভিসা এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষ বিশেষ করে বেকার যুবকদের টার্গেট করে বিগত কয়েক বছরে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করে আবদুল্লাহ-আমিনুল এর মানবপাচার চক্রটি।
দীর্ঘদিন ধরে তারা তাদের এসকল কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছিলো। ইউরোপে পাঠানোর কথা বলে জন প্রতি ২০/২৫ লাখ টাকা নেয় মানবপাচার চক্রটি। বাংলাদেশ থেকে আমিনুল এবং লিবিয়া থেকে আবদুল্লাহ মানব পাচারের এই কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে থাকে। পাসপোর্ট জালিয়াতির মাধ্যমে প্রথমে ভূয়া ভিসা তৈরী করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠায় চক্রটি। ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার রুট হিসেবে চক্রটি দীর্ঘদিন প্রথমে মিসর এবং পরবর্তীতে, মিসর থেকে লিবিয়া হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ নৌ রুট ব্যবহার করে আসছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, আসামি আমিনুল ইসলাম (৪৬) একজন মানবপাচারকারী। অত্র মামলার বাদীর ভাই জাহিদ হোসেন (৪২) কে প্রধান আসামি ইতালি নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২০ লাখ টাকা দাবি করে। তার কথামত বিভিন্ন সময় টাকা দেন। পরবর্তীতে গত ১৩ জুলাই আমিনুলের নির্দেশে জাহিদকে মদিনা হয়ে মিশরে নিয়ে যায়। তারপর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে মিশরে জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। এই ঘটনায় বাদী ডিএমপির হাজারীবাগ থানার মামলা মামলা দায়ের করেন।
জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) বিষয়টি নজরদারি করে আসছিল এবং মানবপাচার মামলা দায়েরের পর এনএসআই এর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-২ ও হাজারীবাগ থানা পুলিশের যৌথ টিম আমিনুল ও তাদের ৪ জন সহযোগীসহ মোট ৫ জন কে গ্রেপ্তার করে।
তাদের কাছ থেকে ৯টি পাসপোর্ট, ১০ টি স্মার্ট ফোন, ১টি বাটন ফোন ও মানবপাচারের মাধ্যমে অর্জিত নগদ এক কোটি ছাপ্পান্ন লাখ ছাব্বিশ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই বাছাই করে তার সহযোগী মানবপাচারকারী চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

