রাজধানীর গুলশান এলাকায় আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকার চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তিন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের এক নেতার ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
রোববার বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে এই আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পুলিশ পরিদর্শক মোখলেসুর রহমান আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন৷
রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন আসামিদের দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করেন৷ তবে আসামিপক্ষে কোন আইনজীবী ছিলো। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শনিবার (২৬ জুলাই) চাঁদাবাজির সময় রাতে ওই বাসা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর গতকাল সংগঠন দুটি থেকে তাদের স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৭ জুলাই গুলশানে শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রিয়াদ, অপুসহ কয়েকজন৷ সেদিন বাসায় ছিলেন শাম্মী আহমেদের স্বামী৷ তাঁকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন রিয়াদ, অপুসহ অন্যরা৷ পরে শাম্মী আহমেদের স্বামী ১০ লাখ টাকা চাঁদাও দেন৷ পরে শনিবার রাত আটটার দিকে চাঁদার বাকি টাকা আনতে যান তারা৷ পুলিশ আগে থেকে এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে৷
মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৭ জুলাই আসামি আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ ও কাজী গৌরব অপু নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে বাদীর গুলশান ২ এর বাসায় হুমকি ধমকি দিয়ে ৫০ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার চাঁদা দাবী করে। অপারগতা প্রকাশ করলে, তাকে আওয়ামীলীগের ও স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর হুমকি দেয়। ভয়ে তাদেরকে ১০ লাখ টাকা দেন। পরে ১৯ জুলাই পুনরায় বাকী ৪০ লাখ টাকা দাবি করেন। সেদিনও হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে গত ২৬ জুলাই চাঁদা নিতে আসলে গুলশান থানা পুলিশ তাদের আটক করে। কাজী গৌরব অপু পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় শাম্মি আহমেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফর গুলশান থানায় ছয় জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলাটি করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

