শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা: ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ, বুধবার আত্মপক্ষ শুনানি

স্টাফ রিপোর্টার

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যা: ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ, বুধবার আত্মপক্ষ শুনানি

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৭ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও মা পারভীন আক্তারসহ ১৬ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এরপর রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। সাক্ষীদের জেরা শেষে আগামীকাল আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ সমাপ্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এদিকে সকাল পৌনে ৯টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তাদেরকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণের আগে তাদেরকে এজলাসে নেওয়া হয়।

আদালতে হাজির হয়ে ন্যায়বিচার চেয়ে ভিকটিম রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করে বলেছেন, “আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়।”

আব্দুল হান্নান বলেন, “আমি আদালতের কাছে প্রত্যাশা করি, আমার মাসুম বাচ্চার যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, বর্বরোচিত ধর্ষণ—তার ন্যায় ও সুষ্ঠু বিচার যেন পাই। সেই বিচারের দ্রুত কার্যকারিতা চাই। আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়। কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন ভেঙে না যায়। কোনো বাবা-মাকে যেন আদালতের বারান্দায় এসে না দাঁড়াতে হয়। আমি সরকার ও বিরোধী দলের কাছে অনুরোধ করব, আপনারা সংসদে এমন একটা আইন পাস করুন যেন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার এক মাসের মধ্যে রায় হয় এবং সেটা কার্যকর হয়। এটাই প্রত্যাশা করি, দেশবাসীও এটা প্রত্যাশা করে।”

এদিন মামলার প্রথম দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। রামিসার বাবার পাশাপাশি আদালতে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেন। এসব সাক্ষীর মধ্যে রয়েছেন—সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পান। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেন সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধবিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।

মামলাটি তদন্ত করে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ওই দিনই বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন