শ্যালকের ওপর হামলা ও স্ত্রীকে হত্যার হুমকিদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।
গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেয়া পোস্টে এই বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
পোস্টে আমির হামজা জানান, ‘প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। আমি মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৩ আসনের জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য।
গতকাল (সোমবার) একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার শ্যালককে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে এবং আমার স্ত্রীকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে আমি পৌঁছানোর আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই প্রশাসনের সহযোগিতায় আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি আশাবাদী, এই নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে তাদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’
আমির হামজা আরো জানান, ‘ইতোমধ্যে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাকে অবগত করেছেন যে, গতকাল রাত থেকেই সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্তরা নিজ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
আমি প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও প্রত্যাশা রাখি যে, আমার শ্যালকের ওপর হামলাকারী এবং আমার স্ত্রীকে হত্যার হুমকিদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
সকলের কাছে দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।
— আমির হামজা (সংসদ সদস্য, কুষ্টিয়া-৩)।’
সূত্রমতে, কুষ্টিয়া থেকে জীবননগরে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে সোমবার আসরের নামাজের সময় জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজারে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আমির হামজার শালা ও দৈনিক কালবেলার জীবননগর প্রতিনিধি আবু বক্কর ও তার গাড়িচালক সাদ্দাম হোসেন আহত হন।
আবু বক্কর গণমাধ্যমকে বলেন, কুষ্টিয়া থেকে আমির হামজা একটি গাড়িতে আর বোনসহ আমরা কয়েকজন আরেকটি গাড়িতে জীবননগর যাচ্ছিলাম। হাসাদাহ বাজারে পৌঁছালে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাই আমাদের গতিরোধ করে। এসময় বার বার হর্ন দিলেও ইজিবাইক না সরালে আমাদের গাড়িচালক নেমে গিয়ে কথা বলেন।
এসময় ওই ইজিবাইক চালক দুঃখ প্রকাশ করে। হঠাৎ রাস্তার বিপরীত দিক থেকে কয়েকজন এসে আমার ওপর হামলা করে। আমি এমপি আমির হামজার শালা বলায় তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়। এসময় আমার বোন গাড়ি থেকে বের হয়ে আসলে তাকে এবং আমির হামজাকে নিয়ে গালমন্দ করেন তারা।
তিনি জানান, হাসাদাহ বাজারের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, তার ছেলে শাহরিয়ার ও রিমন হামলা চালায়।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে জীবননগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যান। পরে আমিজ হামজা ও তার পরিবারের সদস্যরা জীবননগর থানায় গিয়ে মামলা করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

