রাজধানীর গুলশানে শিল্পপতির বাসায় অনধিকার প্রবেশ করে স্ত্রীর ও সন্তানদের মারধরের মামলায় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ভাতিজাসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ভুক্তভোগী নারী।
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুর রহমানের আদালতে শিল্পপতি (মৃত) মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) কে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে আগামি এক মাসের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত।
মামলার আসামি করা হয়েছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাতিজা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরী, সামসুল আলামিন রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের প্রোপ্রাইট আরেফিন সামসুল আলম, মেরিনা ইরশাদ, কেশব চন্দ্র নাথ, হারুন অর রশীদ, ফেরদৌস মুনসি, শাহাবুদ্দিন এবং ছালাউদ্দিন আব্বাছি।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় ৬ তলা ভবন নির্মাণ করার জন্য আরেফিন সামসুল আলমের সাথে ২০০৬ সালে মাইনুল ইসলাম এবং ফারজানা আন্না ইসলাম দম্পতি ভবন নির্মাণের চুক্তিপত্র সম্পাদন করেন।
২০০৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তারা বাড়ি বুঝে পান। মাইনুল ইসলাম ২০০৮ সালের ২৪ মার্চ মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর সামসুল আলম অন্য আসামিদের নিয়ে বাড়ির ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা করতে থাকেন। আসামিরা ভুয়া জাল দলিল তৈরি করে বাড়ির ২য় তলার সম্পূর্ণ ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেন।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুন্থানের পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত ১৪ জুলাই তারা ওই বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ফ্ল্যাটগুলোর তালা ভেঙে দখল করার চেষ্টা করে। তারা ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। ফারজানা আন্না ইসলামকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।
গত ২৮ অগাস্ট আবারও তারা বাসায় প্রবেশ করে হামলা করে বাসার লোকজনদের আহত করেন। ১০ লাখ টাকা, ১০ ভরি স্বর্ণের জিনিসপত্র নিয়ে যায়। ৫ কোটি টাকা চাঁদা না দিলে ফ্ল্যাটগুলো দখল করে নেওয়ার হুমকি দেয়। যাওয়ার সময় আসামিরা বাসার নিচে গ্যারেজ ভাংচুর করে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারটি রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

