মানবতাবিরোধী মামলা

হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষীদের যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ

হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষীদের যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার এক সাক্ষীকে হুমকি দেওয়ায় ঘটনায় তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে এই ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারপতি মহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালতে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম এ বিষয়ে শুনানি করেন।

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, শেখ বোরহান উদ্দিন পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজে’র সহযোগী অধ্যাপক আঞ্জুয়ারা ইয়াসমিন, রাজধানীর চানখাঁরপুল মামলার একজন সাক্ষী। তিনি আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার পর থেকেই অপরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নানা ধরনের হুমকি পাচ্ছেন। তাকে অসম্মান করা হচ্ছে এবং তার ছবি বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে অপদস্ত করার চেস্টা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি তার নিরাপত্তার বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, চানখারপুলে আনাসসহ ৬ জনকে গুলি করে হত্যার মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ কয়েকজন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। দ্রুতই ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

তিনি বলেন, চানখারপুলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুদিন আগে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন একজন। তিনি এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী। ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার দিনই তার বিরুদ্ধে অপ্রীতিকর-অসম্মানজনক ও নিরাপত্তায় হুমকিস্বরূপ কার্যক্রম করেছেন কিছু ব্যক্তি। ব্যানার টানানোসহ সাক্ষীর বিরুদ্ধে মিছিলও করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত কিছু ছবি-ভিডিও প্রসিকিউশনকে দিয়েছেন ওই সাক্ষী।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সাক্ষী সুরক্ষার আবেদন করা হয়। আবেদনটির ওপর আজ শুনানি হয়েছে। একইসঙ্গে সাক্ষীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন ট্রাইব্যুনাল। তার কাছে থাকা ছবি-ভিডিও দেখেছেন। শুনানি শেষে সাক্ষীর সুরক্ষায় আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আদেশে ওই সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি ও কর্মরত প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের এলাকায় তাকে নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননাকর পোস্টার-ব্যানার থাকলে দ্রুত অপসারণ করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। কমিটিকে অতি শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন