কালশী হত্যাকাণ্ড ১১ বছর পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা

কালশী হত্যাকাণ্ড ১১ বছর পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা

আগামীকাল ১৪ জুন। মিরপুরের কালশীতে সংগঠিত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর পূর্তি। ২০১৪ সালের ১৪ জুন আওয়ামী লীগের তৎকালীন এমপি ইলিয়াস আলী মোল্লার নির্দেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী ও পুলিশ ভোরে মিরপুরের পল্লবীর কালশীতে ১২ জন উর্দুভাষী বিহারিকে পুড়িয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছিল। তবে নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের ১১ বছর পার হলেও এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছেন জড়িত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে আজও বুক শিউরে ওঠে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এক দশকের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের কোনো সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হয়নি। তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য (এমপি) ও তার সন্ত্রাসীরা জড়িত থাকায় আজও জড়িতরা ধরাছোঁয়ার বাইরে।

বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার ছিল মিরপুরে বিহারী ক্যাম্পে আগুন দেওয়ার আগে তাদের ঘরে তালা মেরেছিল পুলিশ ও সন্ত্রাসীরা। পরে পুলিশের সঙ্গেই ঢোকে সাদা পোশাকের অস্ত্রধারী ক্যাডাররা। এরপর শুরু হয় মুহুর্মুহু গুলি, টিয়ারশেল নিক্ষেপ আর পেট্রল ঢেলে ঘরে ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা। বিহারিপল্লির কয়েকজন বাসিন্দা এ দৃশ্য দেখে তাদের স্বজনদের বাঁচাতে তালা ভাঙার চেষ্টা করলে তাদেরও গুলি করা হয়েছিল। এ সময় পল্লির ভেতর থেকে আতঙ্কগ্রস্ত মানুষ বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের জোরপূর্বক আটকে রেখে মারধর করে গুলি ছুড়তে ছুড়তে সাদা পোশাকের অস্ত্রধারীরা চলে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, আক্রমণকারী ও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তার না করে, ঘটনা আড়াল করতে উল্টো নিরীহ বিহারিদের ওপর দায় চাপিয়ে মামলা করে পুলিশ।

এদিকে ঘটনার প্রকৃত তদন্ত ও খুনিদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবিতে শনিবার বাংলাদেশি বিহারি পুনর্বাসন সংসদ (বিবিআরএ) বিক্ষোভ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তারা দলীয় কার্যালয়ে কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।

বিহারিপল্লির প্রত্যক্ষদর্শী বাসিন্দাদের অভিযোগ, সারাদেশের মতো আওয়ামী লীগ তার পুরো সময় ক্যাম্পে সাধারণ বিহারিদের ওপর নির্যাতন করে এসেছিল। ১৪ জুনের ওই এক পরিবারের ৯ জনকে পুড়িয়ে এবং একজনকে গুলিতে মারা হয়েছিল। সব মিলিয়ে সে সময় ১২ জনকে খুন করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন