কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার দাবি করে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
রোববার কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার সন্তান কীভাবে হত্যা হলো, এটা আমরা কখনো চিন্তা করিনি। আমাদের সর্বোচ্চ চিন্তা ছিল পথেঘাটে কোনো দুর্ঘটনা হতে পারে। কিন্তু এভাবে হত্যা হবে, সেটা আমাদের মাথায়ই আসেনি।’
তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত এবং যাদের নিয়ে তদন্ত চলছে, চার্জশিটে তাদের বিষয়ে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের প্রতি আমার আস্থা আছে।’
অপ্রতিমকে কুমিল্লার সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে তার বাবা বলেন, ‘আমার ছেলে কুমিল্লাতে হাঁটতে শিখেছে। কুমিল্লার মানুষের হাত ধরে হাঁটতে শিখেছে, কুমিল্লার ভাষায় কথা বলেছে। তাই আমার ছেলে হারানো শুধু আমার একার হারানো নয়, আমি মনে করি কুমিল্লার একটি সন্তান হারিয়ে গেছে। এটি কুমিল্লার মানুষেরও চাওয়া—অপ্রতিম হত্যার সঠিক বিচার হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই সচেতনতা দেখে ভালো লাগছে। তবে আরও বেশি ভালো লাগবে, যদি আমার সন্তানের বিচার সঠিকভাবে হয় এবং এ হত্যাকাণ্ডের শাস্তি ফাঁসি হয়।’
শিশু আইনে গাজীপুরের কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো আসামিদের প্রকৃত বয়স নির্ধারণের দাবিও জানান তিনি। কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘শিশু আইনের অনেক বিষয় আমি জানি না, বুঝি না। যাদের শিশু আইনে গাজীপুরে পাঠানো হয়েছে, তাদের বয়স বায়োলজিক্যাল টেস্ট বা রেডিওলজিক্যাল টেস্টের মাধ্যমে প্রকৃত বয়স নির্ধারণ করা হোক।’
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। পরদিন লালমাই পাহাড়ের বিজয়পুর এলাকার সানন্দা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

