৪ মাস পর অপূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন

শুধু সাময়িক বহিষ্কার হচ্ছেন জাবির জুলাই হামলাকারীরা

শুধু সাময়িক বহিষ্কার হচ্ছেন জাবির জুলাই হামলাকারীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি ৪ মাস পর অপূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। অভিযুক্ত কাউকে কারণ দর্শানো নোটিশ না দিয়ে এবং তাদের শাস্তির সুপারিশ না করেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন বলে নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির এক সদস্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে অভিযুক্তকে কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়া সাময়িক বহিষ্কার চেয়ে বেশি শাস্তি দেওয়া যায় না। তাই আগামী ১৭ মার্চে সিন্ডিকেটে সাময়িক বহিষ্কার ছাড়া অন্য কোনো শাস্তি দিতে পারবে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

জানা যায়, তদন্ত কমিটি ভিডিও ফুটেজ দেখে ও আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত করেছে। হামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হলেও কোনো প্রকার কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়নি। এমনকি কোনো শাস্তির সুপারিশ করা হয়নি। তদন্ত কমিটির অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, তদন্ত কমিটিকে তদন্ত করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল।

কেন শাস্তির সুপারিশ করা হয়নি জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব রায়হান শরীফ বলেন, আমাদের কাজের পরিধি অনেক বেশি ছিল শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার একটা চাপ ছিল। তাই আমরা কারণ দর্শাতে পারিনি এবং শাস্তির সুপারিশ করতে পারিনি। আমরা কেবল অপরাধী শনাক্ত করেছি। বিধি অনুসরণ করে শাস্তির সুপারিশ করেছি।

‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ২০১৮’ এর ধারা ৭ এর ‘তদন্ত প্রক্রিয়া’ নামক অধ্যাদেশ থেকে জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর নামে প্রক্টর বরাবর কোনো প্রকার অভিযোগ দায়ের হলে আনীত অভিযোগের আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য প্রদানের জন্য নূন্যতম সাতদিন সময় দিয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করতে হবে। সেসঙ্গে আরো উল্লেখ আছে তদন্ত কমিটি সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে প্রেরণ করবেন।

গত ১৭ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। এরপর গত ২ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি। এ তদন্ত কমিটি গঠনের সময় তদন্ত কাজের জন্য প্রথমে ৩০ কর্মদিবস সময় বেঁধে দেয় প্রশাসন। এরপর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে তদন্ত কাজের সময় কমিয়ে ১৫ কর্মদিবস নির্ধারণ করে প্রশাসন। তবে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর তিন দফা সময় বাড়িয়ে নেয় তদন্ত কমিটি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন