নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরীর প্রকাশ্য কর্মসূচির মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা এবং তাদের কার্যক্রম ঠেকাতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর ব্যর্থতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করেন তারা।
এসময় বিক্ষোভ সমাবেশে 'সন্ত্রাসবাদ নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তিপাক', 'উগ্রবাদের ঠিকানা এ বাংলায় হবে না,' 'সন্ত্রাসবাদের ঠিকানা, এ বাংলায় হবে না,' 'উগ্রবাদ নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক' প্রভৃতি স্লোগান দেন।
এ সময় গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ ঢাবি শাখার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বলেন, হাসিনার ফ্যাসিবাদী আমলের পতনের পর থেকে হিজবুত তাহরীর মত অনেকগুলো জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা বেড়ে গেছে। যারা আগের মত হাসিনার সেই বাকশালি থিওরি বাস্তবায়ন করছে। যারা হাসিনার মতবাদকে লালন করবে তাদের পরিণত হাসিনার মত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি হিজবুত তাহরী উগ্রবাদের চর্চা করে। আমরা ৫ই আগস্টের পর থেকে দেখছি তাদের দৌরাত্ম্য আরো বেড়ে গেছে। সেখানে পুলিশ কী ভূমিকা পালন করেছিল- প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন তিনি। এসময় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদেরকে ও তাদের মদতদাতাদের গ্রেফতার করে তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
আজকের ঘটনায় বাইতুল মোকাররমের সামনে হিজবুত তাহরীরকে মিছিল করার সুযোগ দিয়েছে পুলিশ মন্তব্য করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদের মুখপাত্র তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী বলেন, আমরা দেখছি সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়া হয়েছে তারপরও তারা কেন কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না তার জবাব দিতে হবে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাদের চূড়ান্ত ব্যর্থতা দেখাচ্ছে। আমরা হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি। হাসিনা যে পথে গেছে তারাও সে পথে যাবে।
এসময় সংগঠনটির ঢাবি শাখার মুখ্য সংগঠক হাসিব আল ইসলাম বলেন, হিজবুত তাহরীর বাইতুল মোকাররম মসজিদ থেকে মিছিল করেছে যা আমাদের জন্য উদ্বেগজনক। দীর্ঘ ছয়মাস পরও অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। আজকে আমরা দেখেছি পুলিশ প্রশাসন নামমাত্র তাদের বাধা প্রদান করেছে। আমরা বলে দিতে চাই, এ বাংলায় উগ্রবাদের কোনো ঠাঁই হবে না।
উল্লেখ্য, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষ হওয়ার পরেই হিজবুত তাহরীরের ব্যানার নিয়ে একটি মিছিল বের করে। পুলিশের বাধা অতিক্রম করে মিছিলটি পল্টন মোড় পার হয়ে বিজয়নগর মোড়ের দিকে যায়। এসময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে এবং লাঠিপেটা করে। কয়েকবার মিছিলের জন্য একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

