রোজা শেষে ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ আরোপ: প্রক্টর

রোজা শেষে ঢাবি ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকারে বিধিনিষেধ আরোপ: প্রক্টর

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে পাঁচ শতাধিক পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে সংশ্লিষ্ট কমিটি।

পাশাপাশি একই সময়ে সেই তদন্ত প্রতিবেদনটি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট সভায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

রোববার বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনস্থ আব্দুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।

987

উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি তারা প্রতিবেদন শেষ করে বর্তমানে সংশোধনী করছে। চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বা শুক্রবারের মধ্যে এটি চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে।তিনি বলেন, সেসময় সাংবাদিকদেরও বিষয়টি জানানো হবে৷ প্রায় ৫০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলে আগামী সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাহীনতা ও সম্প্রতি এক ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা যেকোনো অভিযোগ পেলেই সাথে সাথে সে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। এছাড়াও বহিরাগত যানবাহন ও বহিরাগত নিয়ন্ত্রণের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে যে ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচল সীমিত ও প্রবেশাধিকার সীমিত করেছিলাম সেই কার্যক্রম বইমেলা ও পবিত্র রমজান উপলক্ষে বন্ধ ছিল। ঈদের পর থেকেই আমরা আবার পুরোদমে যান চলাচল সীমিত ও বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ করবো। এতে করে ক্যাম্পাস এলাকায় যে বহিরাগত ও ভবঘুরে ঘোরাফেরা করছে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে সেটি আর হবে না।

এর আগে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের চার মাস পরে প্রতিবেদন জমা দেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন