দক্ষিণ এশিয়ায় ন্যায্যতা, পারস্পরিক সমঝোতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে পানির অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষক ও সাংবাদিকরা। তারা বলেছেন, পানি ব্যবস্থাপনায় আধিপত্যের পরিবর্তে গবেষণাভিত্তিক নীতি, তথ্যের আদান-প্রদান এবং যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের কনফারেন্স কক্ষে ‘দক্ষিণ এশিয়ার হাইড্রোপলিটিক্স: পানি বণ্টন, ক্ষমতা ও ভূরাজনীতি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সাউথ এশিয়া ইয়ুথ ফর পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি সোসাইটি এ সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন চবি ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল সরোয়ার।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চবির বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের ফ্যাকাল্টি মুহাম্মাদ তানবীরুল ইসলাম। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার পানির রাজনীতি বুঝতে হলে শুধু কোন দেশ কতটুকু পানি পাবে বা নিয়ন্ত্রণ করবে, সেটি বিবেচনা করলে হবে না। নদীর উজান-ভাটির ভৌগোলিক অবস্থান, পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত সুবিধা, তথ্যের প্রাপ্যতা এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সমীকরণ একটি রাষ্ট্রের দর-কষাকষির সক্ষমতা নির্ধারণ করে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার নদীগুলোর ভবিষ্যৎ শুধু পানি বণ্টনের প্রশ্ন নয়, এটি সহযোগিতা, ন্যায্যতা ও যৌথ দায়িত্বের বিষয়। ভবিষ্যতের পানি নিরাপত্তা নির্ভর করবে দেশগুলো কতটা প্রতিযোগিতার পরিবর্তে তথ্য ভাগাভাগি, পারস্পরিক আস্থা ও যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যেতে পারে তার ওপর।
চবি ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মো. বরকত আলী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় পানি বণ্টনের ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে গবেষণাধর্মী তথ্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে জনবান্ধব চুক্তি করতে হবে। পানির অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মাহফুজুল হক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। ভারত একপ্রকার বাংলাদেশের নদীগুলো হত্যা করছে। এর মাধ্যমে ভারত মানবতাবিরোধী অপরাধ করছে।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় পানি ভূরাজনীতির অন্যতম উপাদানে পরিণত হয়েছে। আধিপত্যবাদী মনোভাব পরিহার করে ন্যায্যতা ও বাস্তবধর্মী গবেষণার ভিত্তিতে পানি চুক্তি করতে হবে। বাংলাদেশের পানির ন্যায্যতা রক্ষায় তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সামছুদ্দিন ইলিয়াস বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলো নিয়ে একাডেমিক গবেষণা প্রয়োজন। দেশের জিডিপিতে নদীগুলোর কত শতাংশ অবদান রয়েছে, তা গবেষণার মাধ্যমে বের করতে হবে। ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষে শুধু চুক্তি নবায়নের চিন্তা না করে জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান বাস্তবতায় নতুন ও ন্যায্য ধারা যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনায় গুরুত্ব দিতে হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমান বলেন, তরুণ সমাজকে পানি ব্যবহারের নীতিমালা সম্পর্কে জানতে হবে। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

