ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্যের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, মধুর ক্যান্টিন হয়ে কলাভবন দিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় তারা ‘আমাদের অঙ্গীকার, নিরাপদ ক্যম্পাস’, ‘খুন হয়েছে আমার ভাই, খুনি তোদের রক্ষা নাই’, ‘নয়মাসে দুই খুন, ভিসি নিয়াজের অনেক খুন’, ‘সাম্য ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেত দিব না’, ‘ক্যাম্পাসে লাশ পড়ে, প্রশাসন কি করে?’, ‘এক দুই তিন চার, ভিসি তুই গদি ছাড়’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবোশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও ক্যাম্পাসের বাইরের ঢাকা কলেজ শাখা, নিউমার্কেট থানা, তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল কলেজসহ মহানগরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, গতকাল রাত থেকে এখন পর্যন্ত আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টর থেকে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য এখনো পাইনি। আগামীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও যেন কোনো হামলার শিকার না হয় আমরা সে দাবি জানাচ্ছি। আমাদের কোনো শিক্ষক যাতে ছাত্রদলের হাতে অপদস্থ না হয় আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের সে নির্দেশনা দিয়েছি। কিন্তু ভিসি স্যার কাল রাতে আমাদের নেতাকর্মীদের সাথে যে আচরণ করেছেন তা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী সসম্মানে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে রাকিব আরো বলেন, আগামীতে যদি ছাত্রদলের একজন কর্মীও হামলার স্বীকার হয় আর অন্তর্বর্তী সরকার কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আমরা এই সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলব। আমরা সাম্য হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের নিকট আহ্বান জানাচ্ছি। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ার দায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানাচ্ছি।
এ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, গতকাল ঢাবি শিক্ষার্থী সাম্যকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তাতে আমরা বলতে পারি ঢাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা আর নিরাপদ নয়। এর আগে ঢাবিতে তোফাজ্জল নামক এক মানসিক ভারসাম্যহীন হত্যার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরবে এটা আমরা কখনো ভাবিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। অনতিবিলম্বে যদি আমরা কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না দেখি তাহলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করব।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটায় উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটকে উক্ত ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে সংগঠনটি। পরে ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

