শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদ ছাত্র অধিকার পরিষদের

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদ ছাত্র অধিকার পরিষদের

সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহত পরিবারের সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করায় বৈষম্যমূলক কোটা প্রথা পুনর্বহালের প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র অধিকার পরিষদ।

বিজ্ঞাপন

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানান সংগঠনটি।

এসময় তারা প্রাথমিক-মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান সকল কোটার বিলোপ, রেলওয়ের চাকরিতে বিদ্যমান পোষ্য কোটা বাতিল, গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারকে এককালীন এক কোটি টাকা এবং আহতদের পঞ্চাশ লক্ষ টাকা সহায়তা দেয়ার দাবি জানান।

বক্তব্য প্রদানকালে ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত বা আহতদের পরিবারের সদস্যদেরকেও কোটাব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কোটা বৈষম্যকে বিলোপ করার জন্য যেই ২০১৮ সালে আন্দোলন করেছিলাম। যার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হয়। কিন্তু আমরা সাত মাস না পেরুতেই দেখি বৈষম্যবিরোধী চেতনার বিরুদ্ধে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে শিক্ষাব্যবস্থায় কোটা পুনর্বহাল করেছে মন্তব্য করে ইয়ামিন মোল্লা বলেন, এ সরকার যে লক্ষ্যে ক্ষমতায় বসেছে তা সম্পন্ন করতে পারেনি। আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং পুনর্বাসন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ–কোনো কাজেই তারা সফল হয়নি। বরং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে দিয়েছে। মানুষের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই। এ পরিস্থিতিগুলো ধামাচাপা দিতে সরকার এটি করেছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে এ ধরনের কোটা থাকতে পারবে না- উল্লেখ করে বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, বাংলাদেশে যে কোটা সংস্কার আন্দোলন হয়েছে সেখানে নেতৃত্ব দিয়েছে ছাত্র, তরুণ ও জনতা। এতে যারা অংশগ্রহণ করেছে তাদেরকে বলতে চাই, শুধু আমরাই এই দেশের মালিক নয়। এ দেশের মালিক সবাই। আমরা মনে করি, একটা বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যেভাবে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেভাবেই ২০২৪-এ গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। মূলত, একটা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠান জন্য এই লড়াই।

তিনি বলেন, ছাত্রদের বৈষম্য রোধ করতেই আমরা আন্দোলন করেছি। কিন্তু, রেলেওয়ে ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনও কোটা আছে। কিন্তু সেখানকার কোটা নিয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে স্কুলে ভর্তিতে কোটা ব্যবস্থায় দৃষ্টি দিয়েছে। যে কোটাব্যবস্থা চালু রয়েছে, তার বিলোপ সাধন করতে হবে। যদি না করা হয়, ছাত্র অধিকার পরিষদ তীব্র থেকে তীব্রতর আন্দোলন শুরু করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন