ডাকসু নির্বাচন

ভেতরে ভোট গণনা, বাইরে বিএনপি-জামায়াতের উপস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা

ভেতরে ভোট গণনা, বাইরে বিএনপি-জামায়াতের উপস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা

বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন ভোট গ্রহণ বিকেল ৪ টায় শেষ হয়েছে। তবে বিএনপির যুবদল সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাহিরের পথগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন।

মঙ্গলবার ভোট শেষে গণনা শুরু হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো প্রবেশপথে হঠাৎ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয় বিকেল তিনটার পর থেকে। রাত্রে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এপিবিএন), র্যাব ও বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশের রায়ট কার, জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়। পোষাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি ডিবি পুলিশের উপস্থিতিও বিদ্যমান প্রতিটি পয়েন্টে।

বিজ্ঞাপন

সরে জমিনে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বেলা তিনটার আগে থেকেই বিএনপির যুবদল সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পথগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। সন্ধ্যা আটটার পর থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর আসতে থাকে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ, হাইকোর্টের দক্ষিণ গেট, চানখারপুল এবং নীলক্ষেত এলাকায় উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন। ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে বলে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা জানালেও হঠাৎ করে এভাবে বাড়তি ফোর্স মোতায়েন এবং কার্যত বিএনপি জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার কারণ নিয়ে কোন কর্মকর্তাই কিছু বলতে চাচ্ছেন না। উত্তেজনা প্রশমনে বিএনপি এবং জামায়াতের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলছেন বলে আলাপকালে স্বীকার করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশের অন্যতম মূল পয়েন্ট শাহবাগ এলাকায় সবচেয়ে বেশি বিএনপি-জামায়াতের নেতা কর্মীদের উপস্থিতি রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি এখানে। পুলিশ, র‍্যাব, এপিবিএন ও বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি বেলা টার পর থেকে।

amardesh_ du 2

নীলক্ষেত পয়েন্টে মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে একইভাবে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যদের সশস্ত্র অবস্থান রয়েছে। চানখারপুল পয়েন্টে উভয় দলের নেতাকর্মীদের অবস্থান থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ছাত্রদলের কম বেশি দেড়শ নেতা কর্মী হাইকোর্ট পয়েন্টের দিকে সন্ধ্যার আগে রওনা দেয়। এদিকে নয়াপল্টনে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেওয়ার খবর বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারছেন শৃঙ্খলা পাঠান। গুলিস্তানের দিক থেকে আড়াইশো- তিনশ জন বিএনপি নেতাকর্মীর মুভমেন্টের বিষয়ে জানা যাচ্ছে একাধিক সূত্রে। অবশ্য রাত সাড়ে সাতটা পর্যন্ত জামায়াত এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি।

একদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক পরিস্থিতি অন্যদিকে প্রতিটি এন্ট্রি পয়েন্টে বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী অন্যদিকে এসব পয়েন্টে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের আগে থেকেই উপস্থিতি। সব মিলিয়ে টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি এবং জামায়াত সংঘর্ষে জড়িয়ে যেতে পারে বলে ডিএমপির এবং নিরাপত্তা বাহিনী সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন