পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অবৈধ লেগুনা ও বাস-স্ট্যান্ডে প্রতিদিনই যানজট ও দুর্ঘটনায় পড়ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় এবার কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও শিক্ষার্থীরা।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে তারা। শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, পার্শ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, সাংবাদিক সংগঠন ও কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নেতৃবৃন্দ এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) শিক্ষক সমিতির লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মোশাররাফ হোসেন। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “বাহাদুর শাহ পার্ক ও আশপাশ এলাকায় অবৈধ লেগুনা-বাসস্ট্যান্ডের কারণে প্রতিনিয়ত যানজট তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনায় আহত হচ্ছে, পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি আর চলতে পারে না। স্থায়ী সমাধান আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
সভায় বক্তারা জানান, জবি শিক্ষক সমিতি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিকবার ডিসি ট্র্যাফিক ও পরিবহণ মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করেছে। কিন্তু তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই এই কর্মসূচি কেবল ক্ষণস্থায়ী প্রতিবাদ নয়, বরং স্থায়ী সমাধান আদায়ের দৃঢ় প্রত্যয়।
শুধু জবি নয়, আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও এই সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মতবিনিময় সভায় কবি নজরুল সরকারি কলেজ, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ, বাংলা বাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, হিড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, সেন্ট গ্রেগরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পোগোজ ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন।
তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—প্রতিদিন যানজট ও দুর্ঘটনার ভয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা আতঙ্কে থাকেন। রাস্তার পাশে টং দোকান ও অবৈধ বসতির কারণে ছিনতাই, মাদকসেবন ও কেনাবেচার মতো অপরাধও বেড়ে চলেছে।
সভায় বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভুঁইয়া, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আজম খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক, গবেষণা সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, ডরমিটরি প্রশাসক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, পরিবহণ প্রশাসক ড. তারেক বিন আতিকসহ শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির নেতারা, শিক্ষার্থী সংগঠনসমূহের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দও কর্মসূচি বাস্তবায়নে একাত্মতা ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ডিসি ট্র্যাফিক ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যৌথ সভায় কিছু সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আগামীকালের এই কর্মসূচিকে তারা “গুরুত্বপূর্ণ বাঁক” হিসেবে দেখছেন।
সকল পক্ষের ঐকমত্য—অবৈধ লেগুনা ও বাস-স্ট্যান্ড অপসারণ এবং বাহাদুর শাহ পার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করতে হবে। তবেই একটি নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও সৌন্দর্যমণ্ডিত পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

