ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভূতত্ত্ব কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন কবি সুফিয়া কামাল হলের নারী শিক্ষার্থীরা। এখানকার অধিকাংশ নারী ভোটার শিক্ষার্থীবান্ধব প্রার্থীদের বেছে নিয়েছেন।
আমার দেশকে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী জানান, ভোটের পরিবেশ অনেক ভালো। ভোট দিতে পেরে খুবই আনন্দিত। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিয়মিত স্টুডেন্টের পাশাপাশি যারা শিক্ষার্থীবান্ধব তাদের বেছে নিয়েছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাপ্লায়েড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ রিদিতা বলেন, আমি যতটুকু দেখছি এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক আছে। ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে রেগুলার স্টুডেন্ট, শিক্ষার্থীবান্ধব ও নারীদের নিয়ে যারা কাজ করে এমন প্রার্থীদের বিবেচনায় নিয়েছি। এ নির্বাচনের প্রার্থী সবাই মোটামুটি ভালো। সবাই স্টুডেন্টদের জন্য কাজ করে এসেছে। যেই হোক ভালো হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সফটওয়্যারের ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ভোট দেয়ার পরিবেশ ভালো। সবকিছু সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। লাইনে বেশিক্ষণ দাঁড়াতে হয়নি। ভোট দিয়ে ভালো লাগছে। প্রার্থীদের সবদিক দেখেছি। রাজনৈতিক দিক বিবেচনা না নিয়ে শিক্ষার্থীবান্ধব প্রার্থী বেছে নিয়েছি। যাদের মনে হয়েছে স্টুডেন্টের জন্য কাজ করবে তাদের বেছে নিয়েছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী সাবিয়া আক্তার পর্ণা বলেন, আমি ইশতেহার দেখে ভোট দিয়েছে। যাদের ইশতেহার যুক্তিসংগত ও শিক্ষার্থীবান্ধব মনে হয়েছে তাদের ভোট দিয়েছি। অতিরঞ্জিত বলা কাউকে ভোট দেইনি।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে এতো সুন্দর নির্বাচন এর আগে হয়েছে কি-না তা আমার জানা নেই। খুব সুন্দর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছি। ভোট দিতে ১০ মিনিট সময় লেগেছে। এখানে কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে তা মনে হয়নি। আশা করি ডাকসুতে নারীরা এগিয়ে থাকবে।
অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত বলেন, ভোট দিতে আশার আগে একটু ভয় লেগেছে তবে এসে দেখি সবকিছু শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশ ভোট হচ্ছে। যারা নির্বাচিত হয়ে আসবে তারা যেনো ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে এটাই আশা করি।

মঙ্গলবার সকাল ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত। এখন পর্যন্ত ভূতত্ত্ব কেন্দ্রে ৬৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে জানান রিটার্নিং অফিসার কাজী মারুফুল ইসলাম।
কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, আমরা সকাল ৮টা ২০ মিনিট থেকে ভোট নেয়া শুরু করেছি। ভোট শুরুর আগে এখানে অনেক ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। তাই বলা যায় এখানে শিক্ষার্থীরা প্রচুর আগ্রহ নিয়ে ভোট দিতে এসেছে। এখন পর্যন্ত আমাদের কেন্দ্রে ভেতরে-বাহিরে কোনো আপত্তিকর ঘটনা ঘটেনি। অনিয়মও হয়নি।
তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত ৬৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। প্রধান অংশ আগেই ভোট দিয়ে ফেলছে। এখন তেমন কোনো চাপ নেই।
কবি সুফিয়া কামাল হলের নারী শিক্ষার্থীরা ভোট দিচ্ছেন ভূতত্ত্ব কেন্দ্রে। এখানে মোট ভোটার ৪ হাজার ৪৪৩ জন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

