বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্মার্ট ক্যাম্পাসে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। হাই-স্পিড ইন্টারনেট, স্মার্ট ক্লাসরুম, সমন্বিত ডিজিটাল সেবা এবং অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভর্তি থেকে শুরু করে প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, তোমরা অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এই ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছ। তাই তোমরা মেধাবীদের মধ্যেও মেধাবী। তবে শুধু মেধা নয়, আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষি, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় ঐতিহাসিক অবদান রেখে চলেছে। শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণা, খেলাধুলা, বিতর্ক, নেতৃত্ব বিকাশ এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হতে হবে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর সঙ্গে একটি পরিবার ও একটি স্বপ্ন জড়িয়ে থাকে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও আন্তরিক সম্পর্ক অপরিহার্য।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ও গবেষণার যে অবকাঠামো গড়ে তুলেছে, তা দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল। আগামী চার থেকে পাঁচ বছর পর এখানকার শিক্ষার্থীরাই দক্ষ কৃষিবিদ, গবেষক ও বিজ্ঞানী হিসেবে দেশের কৃষি উন্নয়ন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নেতৃত্ব দেবে।
নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবং ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া।
প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে শুধু এআই টুলস বা প্রিন্ট করা নোটের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে মৌলিক পাঠ্যপুস্তকভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। দেশের কৃষি ও কৃষকের ভরসাস্থল হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিন পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। পরে ফুলেল শুভেচ্ছায় নবীনদের বরণ করে নেওয়া হয়। এছাড়া ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫ বছরের পথপরিক্রমা’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, আবাসিক হল ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

