নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর সরকার: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর সরকার: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যেই নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে এবং আগামী চার বছরের মধ্যেই তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ শুরু করেছে। পাশাপাশি রাজধানীর খাল, বিল ও নদী দূষণ রোধে বাসা মালিকদের জন্য সেফটি ট্যাংক নির্মাণ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় কার্যকারিতা আনতে স্থানীয় সরকারের কাঠামোতে পরিবর্তন এনে ‘সিটি গভর্নেন্স’ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

একই অনুষ্ঠানে পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জলবায়ু পরিবর্তনকে দেশের জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে টিকে থাকতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন খাল-নদী খনন না হওয়ায় দখল ও দূষণ বেড়েছে। এসব দখল ও দূষণের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, নদীভাঙনের ফলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ জমি ও বসতভিটা বিলীন হচ্ছে, ফলে মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়ছে। সরকার এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বলেও তিনি জানান। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে এগিয়ে আসতে হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্যের কারণে নদী দূষণ বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে মাছের উৎপাদনে, বিশেষ করে ইলিশে। নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ বলেন, নদী দখলের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জড়িত। দোষারোপের রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

সিইজিআইএস-এর নির্বাহী পরিচালক জানান, প্রতি বছর প্রায় ৯১৫ হেক্টর জমি নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে, যা নগরে জনসংখ্যার চাপ বাড়াচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই ঝুঁকি আরও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পরিবেশবিদরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে না পারলে পরিবেশগত সংকট আরও তীব্র হবে। পরিবেশবিদ শরীফ জামিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের ওপর জোর দেন।

সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা জানান, সরকার ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে, তবে কার্বন বাণিজ্যসহ পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি সুসংগঠিত রোডম্যাপ প্রয়োজন।

সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে এপিইডি, সচেতন ফাউন্ডেশন, ব্রাইটার্স, ব্র্যাক সিথ্রিইআর, সিইজিআইএস, ক্যাপস, ডিআরডিএফ, ওয়াটার কিপার্স বাংলাদেশ, ইউডো ও ইপসা।

অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...