দেশি গরু-ছাগল-মুরগির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে: বাকৃবি উপাচার্য

দেশি গরু-ছাগল-মুরগির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে: বাকৃবি উপাচার্য

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেছেন, বাণিজ্যিক খামারের জন্য উচ্চ উৎপাদনশীল জাত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের প্রচলিত দেশি গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিতে হবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দেশের আবহাওয়া ও গ্রামীণ খামার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশি জাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো গেলে প্রাণিসম্পদ খাতে টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা সম্ভব। এ জন্য উচ্চ উৎপাদনশীল বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী খামার ব্যবস্থার উন্নয়নেও পৃথক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

শনিবার (৮ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, প্রায় ৪২ বছর ধরে একাডেমিক ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত আছি। ব্রিডিং খাতে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, উচ্চ উৎপাদনশীল ব্যবস্থায় অধিক দুধ ও মাংস উৎপাদনে সক্ষম গরু, ছাগল ও ভেড়ার জাত উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে গ্রামবাংলার প্রচলিত খামার ব্যবস্থায় দেশি জাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে একটি দেশি গরু গড়ে দেড় লিটার দুধ দিলেও তা চার লিটারে উন্নীত করা সম্ভব। দেশি ছাগলের গড় দুধ উৎপাদন ৩০০ গ্রাম থেকে এক লিটারে এবং মুরগির ডিম উৎপাদন বছরে ৫৩টি থেকে অন্তত ১৫০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া যেতে পারে। দেশি প্রাণীর এসব বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের আবহাওয়া ও সাধারণ খামার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এগুলোর উৎপাদনশীলতা বাড়ানো অধিক টেকসই হবে।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, উচ্চ উৎপাদনশীল বাণিজ্যিক খামারের জন্য উন্নত ব্রিডিং ব্যাকআপ ও হাইব্রিড লাইন তৈরি করতে হবে, যাতে খামারিরা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারেন। পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাবিহীন গ্রামীণ খামার ব্যবস্থায় দেশি গরু, ছাগল ও মুরগির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উপযোগী পরিকল্পনা নিতে হবে। এর সঙ্গে প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতে হবে।

গবাদিপশুর টিকা দেশেই উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় জীবাণু ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ গবাদিপশুর টিকা দেশেই তৈরির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বাকৃবির অবদানের কথা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ৬৫ বছরের পথচলায় দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় অবদান রাখছেন।

কৃষি খাতের নীতিনির্ধারণে বাকৃবির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি, ভেটেরিনারি ও মৎস্য খাতের যেকোনো নীতি প্রণয়নে বাকৃবির শিক্ষক ও গবেষকদের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত। ঢাকাকেন্দ্রিকতার কারণে দেশের অন্যতম প্রধান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে নীতিনির্ধারণের বাইরে রাখা সমীচীন নয়।

তিনি বলেন, কৃষক ও গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বাড়াতে গবেষকরা প্রয়োজনীয় চ্যালেঞ্জ গ্রহণে প্রস্তুত। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে কাজে লাগাতে পারলে প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন ও টেকসই উন্নয়ন আরও বাড়ানো সম্ভব।

বিএসভিইআরের সভাপতি ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সম্মানিত অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান ও ইন্টার অ্যাগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ কে এম খসরুজ্জামান।

‘ট্রান্সলেটিং ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইনটু সাসটেইনেবল লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড গ্লোবাল হেলথ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় সাড়ে ৬০০ গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ভেটেরিনারিয়ান অংশগ্রহণ করছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন