প্রবাসে বৈশাখের রঙিন উৎসব

আমার দেশ অনলাইন

প্রবাসে বৈশাখের রঙিন উৎসব

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আয়োজন করেছেন বর্ণাঢ্য বৈশাখী উৎসব। হাজার মাইল দূরে থেকেও বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও শেকড়ের টান যেন মিলেছে এক সূত্রে।

বিজ্ঞাপন

পর্তুগালের পোর্তো শহরে সেন্ট্রো সিনেমা বাতালহো এবং পোর্তো বাংলাদেশ কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় পিঠা উৎসব। চিতই, ভাপা, পাটিসাপটাসহ নানা দেশীয় পিঠার সমারোহে মুখর হয়ে ওঠে আয়োজনস্থল। পাশাপাশি প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘বরবাদ’, যা উৎসবে যোগ করে বাড়তি উচ্ছ্বাস। আয়োজকদের মতে, প্রবাসে থেকেও বাংলা সংস্কৃতি ধরে রাখার এই প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে টাইমস স্কয়ার ও জ্যাকসন হাইটসে জমে ওঠে বর্ণাঢ্য বর্ষবরণ উৎসব। মঙ্গল শোভাযাত্রা, সংগীত, নৃত্য ও লোকজ পরিবেশনায় প্রবাসে তৈরি হয় এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ। রঙিন মুখোশ ও ঐতিহ্যবাহী সাজে শোভাযাত্রা উৎসবে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। পাশাপাশি পান্তা-ইলিশ, পিঠা উৎসব এবং শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ উৎসবকে করে তোলে আরো প্রাণবন্ত।

মিশরের কায়রোতেও পিছিয়ে ছিলেন না প্রবাসী শিক্ষার্থীরা। হেলিওপোলিস আন্তর্জাতিক উদ্যানে কায়রো, আইন শামস ও আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বৈশাখী আয়োজন। রঙিন পোশাক, দেশীয় খাবার, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। প্রবাসজীবনের দূরত্ব ভুলে এ আয়োজন যেন হয়ে ওঠে এক ক্ষুদ্র বাংলাদেশ।

এছাড়া মালয়েশিয়ায়ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা শোভাযাত্রা, গান, কবিতা ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে উদ্‌যাপন করেন পহেলা বৈশাখ। লাল-সাদা পোশাকে পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেন সবাই। পান্তা-ইলিশ, ভর্তা ও পিঠাপুলির স্বাদে ফিরে আসে দেশের আবহ।

প্রবাসীদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শুধু আনন্দের নয়, বরং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দূরত্ব যতই হোক, বাঙালির হৃদয়ে বৈশাখ চিরন্তন—বিশ্বজুড়ে এসব আয়োজন যেন সেই বার্তাই আবারও মনে করিয়ে দেয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন