প্রখ্যাত চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চন ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি সাত মাস লড়ছেন টিউমারের সঙ্গে। বর্তমানে লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন এই নায়ক। গত বুধবার নিসচা আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইলিয়াস কাঞ্চনের ছেলে মিরাজুল মইন জয় কানাডা থেকে ভার্চুয়ালি এই তথ্য জানান।
মিরাজুল মইন বলেন, ‘আমার বাবা (ইলিয়াস কাঞ্চন) ২৬ এপ্রিল থেকে লন্ডনে অবস্থান করছেন। এ বছরের শুরুতে তিনি শারীরিক নানা সমস্যার মুখোমুখি হন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তাকে গত ৯ এপ্রিল ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই। তার মাথার এমআরআই করার পর জানা যায় মাথায় টিউমার হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই বাবা কথা বলতে গিয়ে আটকে যেতেন। অনেক কিছু মনে করতে কষ্ট হতো। এমআরআই রিপোর্টে জানা গেল, টিউমারজনিত কারণে এ সমস্যা হয়েছে। এই রিপোর্ট গত ১৩ এপ্রিল আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তাররা একটি বোর্ড গঠন করে মতামত দেন তার মাথায় অপারেশন করা ক্রিটিক্যাল হবে। কারণ, টিউমারটি ব্রেনের অনেক গভীরে গুরুত্বপূর্ণ নার্ভের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। ডাক্তারদের এই মতামত জানার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিই লন্ডনে নিয়ে চিকিৎসা করানোর। সিদ্ধান্ত মোতাবেক দ্রুত কাগজপত্র ঠিক করে গত ২৬ এপ্রিল আমরা তাকে নিয়ে লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করি।’
লন্ডনে চিকিৎসার সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে মইন বলেন, ‘লন্ডনে পৌঁছানোর পরের দিন থেকেই সেখানকার হারলি স্ট্রিট ক্লিনিকে নিউরোসার্জারি ডাক্তারের অধীনে নেওয়া হয়। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ৫ আগস্ট লন্ডনের উইলিংটন হাসপাতালে প্রফেসর ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়।’
ডাক্তাররা অপারেশনের আগে জানিয়েছেন, পুরো টিউমার অপসারণ করা যাবে না। এতে জীবনহানিসহ প্যারালাইজড হয়ে চলনশক্তি ও কথা বলার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন তিনি। ডাক্তারের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রেখে টিউমারটির কিছু অংশ অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচারের অনুমতি দেয় তার পরিবার। ডাক্তার জানিয়েছেন, বাকি অংশ রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করা হবে। ৩০ দিন রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপি দিতে হবে।
সপ্তাহে পাঁচ দিন করে ছয় সপ্তাহ চলবে এই রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির কাজ। চলতি মাসেই শুরু হবে চিকিৎসার এই ধাপ। চলবে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত। এরপর চার সপ্তাহ ডাক্তারের অবজারভেশনে থাকবেন তিনি।
পরে সেখানকার ডাক্তাররা যখন অনুমতি দেবেন, আশা করছি তখন তিনি বাংলাদেশে আসতে পারবেন। নিসচার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিরাজুল মইন তার বাবা নিসচা প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস কাঞ্চনের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

