ঢালিউডের নব্বই দশকের কালজয়ী ও ব্যবসাসফল জুটি সালমান শাহ এবং শাবনূর। রূপালী পর্দায় তাঁদের রসায়নের মতো বাস্তব জীবনেও দুজনকে নিয়ে আলোচনার অন্ত ছিল না। দীর্ঘ তিন দশক ধরে তাঁদের সম্পর্কের ধরণ নিয়ে নানা গুঞ্জন চটকদার রূপ পেলেও, এবার সেসব গুঞ্জন নিয়ে সরাসরি কথা বলেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী।
নীলা চৌধুরীর স্পষ্ট বক্তব্য, সালমান শাহ ও শাবনূরের মাঝে কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। সালমান শাহর নিজের কোনো বোন না থাকায় তিনি শাবনূরকে ছোট বোনের মতোই স্নেহ করতেন এবং ভালোবেসে ‘পিচ্চি’ বলে ডাকতেন। শাবনূরও নানা দরকারে সালমানের ওপর নির্ভর করতেন এবং সালমানও বড় ভাইয়ের মতো তাকে আগলে রাখতেন। তাদের এই সুসম্পর্ককে কেন্দ্র করেই কিছু মানুষ ও তৎকালীন সংবাদমাধ্যম ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল বলে তিনি জানান।
এর আগে অভিনেত্রী শাবনূর নিজেও একাধিকবার এই প্রেমের খবর অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সালমান শাহ ছিলেন তাঁর শ্রদ্ধেয় জ্যেষ্ঠ সহশিল্পী ও বড় ভাই। এসব অসত্য গুঞ্জন দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তাঁকে অনেক মানসিক কষ্ট দিয়েছে। কেবল শুটিংয়ের সেটেই নয়, সালমানের পরিবার ও সামিরার সঙ্গেও শাবনূরের সুসম্পর্ক ছিল।
মাত্র কয়েক বছরের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে সালমান শাহ মোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন, যার মধ্যে ১৪টিতেই তাঁর নায়িকা ছিলেন শাবনূর। ‘তুমি আমার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তাঁদের জুটি হিসেবে পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ‘সুজন সখী’, ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো বহু ব্যবসাসফল চলচ্চিত্র উপহার দেন তাঁরা। জীবদ্দশায় সালমানের মুক্তি পাওয়া শেষ সিনেমা ছিল ‘স্বপ্নের পৃথিবী’ এবং মৃত্যুর পর মুক্তি পায় ‘বুকের ভেতর আগুন’।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর রহস্যজনক অকালমৃত্যুর পর সম্প্রতি চিত্রনায়ক ডনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই পুরোনো বিতর্ক আবারও প্রকাশ্যে আসে। তবে অকালমৃত্যুর প্রায় তিন দশক পার হলেও দর্শকের কাছে এই জুটির আবেদন আজও অমলিন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

