‘নিঃশ্বাস কত দামি! আমি সেটা অনুধাবন করেছি হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাবা ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন; শেষে আমার চোখের সামনেই চলে গেলেন। একজন মানুষ সামান্য একটু বাতাসের জন্য লড়ছে, এর চেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য আমি জীবনে দেখিনি। মৃত্যুকে এত কাছ থেকে সেই প্রথম দেখা।’ বলছিলেন মাহফুজ নাজিম মাপেল। তিনি ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’ ফিল্মের প্রযোজক। স্বল্পদৈর্ঘ্যের এই সিনেমাটি ৫ আগস্ট রাত ১২টায় মুক্তি পেয়েছে চরকিতে।
‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ’ নির্মাণ করেছেন ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ। এখানে তন্বী চরিত্রে অভিনয় করেছেন কাজী নওশাবা আহমেদ। সিনেমাটির চরিত্রের মধ্যে থাকা বা শুটিংয়ের সময়টা তাঁর কাছে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
অভিনেত্রী বলেন, ‘পেইন্ট অন ড্রাই লিফ আমার জীবনে একটা দারুণ উপলব্ধি। আমি যে জীবনটাকে ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে শিখছি, সেই শেখাটাকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে এই কাজটা। আমি মনে করি “পেইন্ট অন ড্রাই লিফ” প্রকৃতির দেওয়া একটা গিফট (উপহার) আমার জীবনে। আমার আরেকবার এই কাজে অভিনয় করতে ইচ্ছা করে, কবিতার মতো করে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে ইচ্ছা করে।’
সিনেমায় ইমতিয়াজ বর্ষণ অভিনয় করেছেন তূর্য চরিত্রে। তাঁর মতে, ‘একটুখানি শ্বাস নেওয়ার আশায় যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রামের কাব্যিক দৃশ্যকাব্য হলো “পেইন্ট অন ড্রাই লিফ”। আমরা মানুষেরা যে নৃশংসভাবে উন্নয়নের নামে প্রতিনিয়ত সবুজ ধ্বংস করে চলেছি, কোনো একদিন সত্যি সত্যি অক্সিজেনের প্রাকৃতিক সরবরাহে তীব্র সংকট দেখা দেবে। তখন কী হবে পৃথিবীর মানুষের? এটি অদূর ভবিষ্যতের সেই শঙ্কার গল্প।’
‘তূর্য শুয়ে আছে মুখে অক্সিজেন মাস্ক, নলটা গিয়ে মিশেছে কাচের ভেতর বন্দি ছোট্ট একটা গাছে’—সিনেমার দৃশ্যটি বর্ণনা করে মাপেল জানান, দৃশ্যটার দিকে তাকিয়ে তিনি তূর্যকে দেখেননি, দেখেছেন তাঁর বাবাকে। একটু নিঃশ্বাসের জন্য সে এক নিঃশব্দ লড়াই।
তবে গল্পটা আসলে পরিবেশের না, মানুষের। নির্মাতা বলেন, ‘যে পৃথিবীতে একটা গাছ মানুষের পরিচয় হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে গাছের মরে যাওয়া মানে মানুষটারও ধীরে ধীরে মুছে যাওয়া। গাছ আমার আগের কাজেও ফিরে ফিরে এসেছে; এবার সে গাছ একটা সম্পর্কের আয়না। তূর্য আর তন্বীর ভেতর দিয়ে আমি দেখতে চেয়েছি, ভালোবাসা ঠিক কোন মুহূর্তে যত্ন থেকে জেদ হয়ে ওঠে। ধরে রাখা আর ছেড়ে দেওয়ার মাঝখানে যে সরু জায়গাটুকু, ছবিটা সেখানেই দাঁড়িয়ে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

