রহস্যময় স্থাপনা স্টোনহেঞ্জ

রহস্যময় স্থাপনা স্টোনহেঞ্জ

আমাদের এই পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে অগণিত বিস্ময়কর স্থাপনা, যেগুলো আজও মানুষকে ভাবিয়ে তোলে। স্টোনহেঞ্জ তেমনই একটি রহস্যময় ও প্রাচীন স্থাপনা। ইংল্যান্ডের অন্যতম ঐতিহাসিক নিদর্শন এটি, যা প্রাচীন মানবসভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও আনুষ্ঠানিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ইংল্যান্ডের সলসবেরি সমভূমিতে অবস্থিত এই প্রাচীন স্থাপনাটি কয়েক হাজার বছরের পুরোনো। এর নির্মাণকাজ বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পন্ন হয়েছিল। ঠিক কী উদ্দেশ্যে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবে গবেষকদের ধারণা, এটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সমাধি ও বিভিন্ন সামাজিক সমাবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। সূর্যের অবস্থানের সঙ্গে এর পাথরের বিন্যাসের সম্পর্কও গবেষকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। স্টোনহেঞ্জের রহস্য উন্মোচনে এখনো গবেষণা চলছে।

স্টোনহেঞ্জের কাঠামোতে প্রধানত দুটি ধরনের পাথর ব্যবহৃত হয়েছে—সারসেন ও ব্লুস্টোন। সারসেন পাথরগুলো আকারে বড় এবং এগুলোর ওজন কয়েক দশক টন পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত ছোট পাথরগুলো ব্লুস্টোন নামে পরিচিত। এগুলোর অনেকগুলো ওয়েলসের প্রেসেলি পাহাড়ি অঞ্চল থেকে আনা হয়েছিল বলে গবেষণায় জানা গেছে। এত দূর থেকে পাথরগুলো কীভাবে পরিবহন করা হয়েছিল এবং কীভাবে সেগুলো স্থাপন করা হয়েছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। প্রাচীন মানুষের ব্যবহৃত প্রযুক্তি ও শ্রমসংগঠনের দক্ষতার এক বিস্ময়কর নিদর্শন এই স্থাপনা।

বিজ্ঞাপন

স্টোনহেঞ্জের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো সূর্যের অবস্থানের সঙ্গে এর পাথরের বিন্যাসের সম্পর্ক। স্থাপনাটির বিন্যাস গ্রীষ্মকালীন অয়নান্তে সূর্যোদয় এবং শীতকালীন অয়নান্তে সূর্যাস্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বছরের এই দুটি বিশেষ সময়ে সূর্যের অবস্থানকে কেন্দ্র করে স্টোনহেঞ্জে মানুষের সমাবেশ হতো বলে ধারণা করা হয়। তবে এটি কৃষিকাজের সময় নির্ধারণের জন্য নির্মিত হয়েছিল কি না—তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়।

স্টোনহেঞ্জের পাথরের বিন্যাস থেকে বোঝা যায়, প্রাচীন নির্মাতারা সূর্যের গতিপথ সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য জ্ঞান রাখতেন। এর সঙ্গে চাঁদের গতিপথের কোনো কোনো সম্পর্ক নিয়েও গবেষণা হয়েছে। আকাশের বিভিন্ন জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনার সঙ্গে স্থাপনাটির সম্পর্ক প্রাচীন মানুষের জ্ঞান, বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়। তবে স্টোনহেঞ্জকে পুরোপুরি সৌর ক্যালেন্ডার হিসেবে ব্যবহার করা হতো—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।

স্টোনহেঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা। এটি প্রাচীন মানবসভ্যতার নির্মাণদক্ষতা, সামাজিক সংগঠন এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের এক অনন্য সাক্ষী। এর নির্মাণের উদ্দেশ্য ও ব্যবহার সম্পর্কে অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। সেই অজানাই স্টোনহেঞ্জকে যুগে যুগে মানুষের কৌতূহল ও গবেষণার অন্যতম বিষয় করে রেখেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন