মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।
রোববার (১৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ঔষধ প্রশাসন শাখা থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
সিনিয়র সহকারী সচিব রাফিকুজ্জামান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ২২ জানুয়ারি জারিকৃত এবং ২৯ জানুয়ারি গেজেটে প্রকাশিত ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, ২০২৬ (অ্যালোপ্যাথিক)’ এবং ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬ (অ্যালোপ্যাথিক)’ প্রজ্ঞাপন দুটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা-বৈঠকের অনুমোদনক্রমে বাতিল করা হলো।
এর আগে ৩ আগস্ট সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ওইদিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকার নিরাপদ, কার্যকর, মানসম্মত এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ঔষধ জনগণের জন্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা, ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি, ২০২৬’ বাতিলের কারণ হলো, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা প্রণয়নের আগে জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ নেওয়ার বিধান রয়েছে, যা প্রতিপালন করা হয়নি।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের পরামর্শ ব্যতীত প্রণীত হওয়ায় এর বৈধতা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয় এবং বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন বলেও জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইতোমধ্যে গত ২৯ জুন ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ এর বিধান অনুযায়ী জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছে। এ উপদেষ্টা পরিষদে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। ২০২৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি বাতিল হলেও, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৯৯৪ সালের আদেশে প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা এবং সেসব ঔষধের সরকারি মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতোই বহাল থাকবে।
অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ঔষধের মূল্য এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে যেন জনগণের উপর বাড়তি চাপ তৈরি না হয় এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


