কুমিল্লার সড়কে রঙবেরঙের স্কুটি-বাইক নিয়ে ছুটছেন নারীরা

কুমিল্লার সড়কে রঙবেরঙের স্কুটি-বাইক নিয়ে ছুটছেন নারীরা

সমাজের নেতিবাচক কথা ও প্রতিকূল পরিবেশকে হার মানিয়ে কুমিল্লার সড়কে রঙবেরঙের স্কুটি ও বাইক নিয়ে ছুটে চলছেন নারীরা। শখের বসে, কেউবা আবার প্রয়োজনে। অর্থ ও সময় সাশ্রয়ী এবং ভোগান্তিবিহীন যাতায়াতমাধ্যম হওয়ায় এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। ২০০৯ সাল থেকে কুমিল্লা শহরে বাইক চালাচ্ছেন স্বপ্নীল সুলতানা। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রতি মাসে আয় করছেন ৭০ হাজার টাকা। নারীদের আত্মনির্ভরশীল করতে রাখছেন অগ্রণী ভূমিকা । অন্যান্য জেলা থেকে মেয়েরা কুমিল্লা শহরে বাসা ভাড়া করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন ।

বিজ্ঞাপন

‘দেশের বিভিন্ন জেলায় বাইক নিয়ে ঘুরেছি’ বলে আমার দেশ কুমিল্লা প্রতিনিধিকে জানান স্বপ্নীল সুলতানা। তিনি বলেন, পাশাপাশি দু-একজনকে শেখাতে শুরু করলাম । আমার মতো করে যদি আরো অনেকে রাস্তায় বাইক চালায়, তাহলে তো অনেক প্রতিবন্ধকতা দূর হবে । রাস্তায় নারী বাইকার দেখলে মানুষ যে কটূক্তি করে, তাও দূর হয়ে যাবে । যেমন চিন্তা করলাম, ঠিক তেমনি ২০১৮ সাল থেকে কাজ শুরু করলাম । স্থানীয় প্রশাসন আমাদের সহযোগিতা করছে ।

বাইকার স্বপ্নীল সুলতানা জানান, বর্তমানে আমি বাইক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা আয় করি। এছাড়াও আমার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দুজনের কর্মসংস্থান হয়েছে । এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বর্তমানে ছয়টি স্কুটি ও একটি বাইক আছে । প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কুমিল্লায় নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি । কুমিল্লা জেলার আশপাশের ফেনী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রাম জেলার অনেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন । এমনও দেখা গেছে, অন্যান্য জেলা থেকে মেয়েরা কুমিল্লা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বাইক চালানো শিখেছে ।

মুরাদনগর উপজেলার টনকী গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে সুলতানা । এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০টি জেলায় বাইকে ভ্রমণ করেছেন। বাইক চালানোর নেশা থেকেই বর্তমানে তার এটা পেশা হয়ে গেছে। কুমিল্লা স্টেশন রোডের বাসিন্দা হালিমা মজুমদার আনিকা বাইক চালানো শিখতে এসেছেন ।

বাইকের প্রশিক্ষক ইভা সরকার আমার দেশকে বলেন, শহরের মেয়েদের চেয়ে এখন গ্রামের মেয়েদের বাইক শেখার আগ্রহটা খুব বেশি । গ্রামের মেয়েরা পরিবারকে না জানিয়ে বাইক চালানো শিখছে। পরে বাইক শেখার পর পরিবারকে জানায় ।

তিনি আরো বলেন, আমার দুটি বাচ্চা ছেলেকে স্কুলে আনতে-নিতে অনেক সমস্যা হতো। এখন বাইক চালাতে পারি । এজন্য এখন সহজেই আমি আমার বাচ্চাদের স্কুলে আনা-নেওয়া করতে পারি । খরচও কমেছে ।

নগরীর বাসিন্দা খাদিজা আক্তার বলেন, একটা ভিডিও দেখলাম ইউটিউবে সুলতানা আপা কুমিল্লায় মেয়েদের বাইক চালানো শেখাচ্ছেন । তারপর তার কাছে এলাম । এখন বাইক চালাতে পারি । কিছুদিনের মধ্যেই নতুন বাইক কিনব।

মানবাধিকারকর্মী সুমাইয়া বিনতে হুসাইনি বলেন, অন্যান্য মেগাসিটির মতো কুমিল্লা শহরেও নারী বাইকারদের চলাচল চোখে পড়ার মতো। নিরাপদ চলাফেরার জন্য বিশেষ করে চাকরিজীবী বা অন্যরা যারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হচ্ছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে একটি নির্ভরযোগ্য চলাচলের মাধ্যম। এটি একদিকে যেমন নারীদের নিরাপত্তা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে, তেমনি আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন