ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত না করলে মৃত্যুর মিছিল থামবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত না করলে মৃত্যুর মিছিল থামবে না: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, শুধু ডায়ালাইসিস মেশিন কিনে বা হাসপাতাল তৈরি করে অসুস্থ মানুষের দুর্ভোগ কিংবা মৃত্যুর মিছিল থামানো যাবে না, যদি সাধারণ মানুষের জন্য ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা না যায়।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি প্রসঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক অতীতের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ধারা ভাঙতে হবে। জনগণের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ করা অর্থের একটি টাকাও দুর্নীতির গহ্বরে যেতে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার বিশ্ব আয়োডিন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), গেইন, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং শিল্প ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের নির্বাচনি ইশতেহারের মূল ভিত্তি হলো রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া। তবে চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি ভেজাল খাদ্য ও দুর্নীতি—দুটিই জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় অন্তরায়।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলায় ডায়ালাইসিস মেশিন ও বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হলেও ভেজাল খাদ্য বন্ধ করা না গেলে কিডনিসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সবার জোরালো ভূমিকা কামনা করেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ১৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বানের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করবেন না। যত শক্তিশালী ব্যক্তিই হোন না কেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দেন।

আয়োডিনের ঘাটতি দূর করতে নেওয়া উদ্যোগের প্রশংসা করে ড. এম এ মুহিত বলেন, বিগত বছরগুলোতে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োডিনযুক্ত লবণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ায় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, এখনো প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনবিহীন লবণ খাচ্ছেন। এই আটজনের মধ্যে একজন মানুষের কাছে আয়োডিনযুক্ত লবণ পৌঁছে দিতে সুনির্দিষ্ট গবেষণার ওপর জোর দেন তিনি।

এ ছাড়া দেশের পুষ্টিহীনতায় ভোগা প্রতিবন্ধী শিশুদের—বিশেষ করে যাদের হার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে—মূলধারার পুষ্টি ও স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকের হোসেন খান, গেইনের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. রুদাবা খন্দকার, নিউট্রিশন ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা এবং বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিকের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...