আমরা জানি, পাথর খুবই ভারী বস্তু। বড় আকৃতির কোনো পাথরকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া একজন মানুষের পক্ষে অসম্ভবই বলা চলে। আর পাথর একটি প্রাণহীন বস্তু। কিন্তু যদি বলা হয় কোনো কোনো পাথর নিজে নিজে চলে দূরে যেতে পারে, তা কী তোমাদের বিশ্বাস হবে— হবে না। কিন্তু তেমন পাথরও রয়েছে। সেগুলোকে সেইলিং স্টোন বা স্লাইডিং স্টোন বলে। এগুলো প্রকৃতির এক বিস্ময়!
মানুষ বা কোনো প্রাণীর সংস্পর্শ ছাড়া পাথরের কয়েক ইঞ্চি থেকে শত মিটার পর্যন্ত দূরে যেতে পারার বিষয়টি বিস্ময়কর তো বলতেই হবে । তবে এ কথাও সত্য, পাথরগুলোকে চলে চলে এগিয়ে যেতে কেউ কখনো দেখেছে বলে দাবি করেনি। দাবি না করলেও নরম কাদার ওপর রেখে যাওয়া ছাপ থেকে পাথরগুলোর স্থান পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
১৯৪৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রেস্ট্রেক প্লায়া ও ডেড ভ্যালিতে এমন অবাক করা দৃশ্য প্রথম বিজ্ঞানীদের নজরে আসে । বাতাসের তীব্রতা, কাদামাটির তারল্যে পরিবর্তন আসা, বরফ ও তাপমাত্রার তারতম্য পাথরের সরে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করলেও পাথরের চলার পথের ভিন্নতার কারণে রহস্য থেকেই যায়।

পাথরগুলো এক-একটি কয়েক বছর ধরে চলে। সেই পাথর কখনো সোজাসুজি, কখনো এঁকেবেঁকে এগিয়ে যায় । এমনও হয়, দুটি পাথর পাশাপাশি থেকে সমান্তরালে চলে আচমকা ঠিক বিপরীত দিকে তাদের দিক পরিবর্তন করে।
কোনো কোনো পাথরের ওজন কয়েকশ পাউন্ড পর্যন্ত হয়। এ কারণে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে—পাথরগুলো কীভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যায়? পাথরের চলন্ত পথে রেখে যাওয়া সূক্ষ্ম ছাপ থেকে বোঝা যায়, পাথরগুলো এমন সময়ে স্থান পরিবর্তন করে যখন উপত্যকায় নরম কাদামাটির আস্তরণ থাকে। মানুষ বা অন্য কোনো প্রাণীর দ্বারা পাথরের স্থান পরিবর্তন হলে নিশ্চয় কাদার ওপর তাদের পায়ের দাগ থাকত।
বিজ্ঞনীরা যা বলেন : গত ৫০ বছরের গবেষণায় এখন পর্যন্ত পাথর কোন শক্তির সাহায্য নিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যায়, তার রহস্য এখনো আবিষ্কার করা যায়নি। ১৯৫৫ সালে এম স্ট্যানলে প্রথম তার ধারণার কথা জানান। তার মতে, রেস্ট্রেক প্লায়া ও ডেথ ভ্যালিতে বন্যার পর সৃষ্ট বরফের কারণে পাথর স্থান পরিবর্তন করে। বছরের কোনো সময় প্লায়া ভ্যালি সাত সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়, রাতে তাপমাত্রা হিমাংকের নিচে নেমে আসে। তবে ১৯৭৬ সালে রবার্ট শার্প এবং ডুইথ ক্যারি এম স্ট্যানলের পাথরের চলাচলের ওপর দেওয়া মতবাদে দ্বিমত পোষণ করেন। তারা পাথরের চলার পথের ধরন ও জ্যামিতিক বিশ্লেষণ করে একাধিক ট্র্যাকের মাঝে সম্পর্ক দেখতে পান যেটি বরফ খন্দের দ্বারা ঘটা সম্ভব নয়।
তারা বলেন, বছরের নির্দিষ্ট সময় বাতাসের কারণে পাথরগুলো সরে যায়, যেটি প্রতি বছর বা দু বছর পরপর ঘটে থাকে। ১৯৯৫ সালে জন বি. রেইড এবং হ্যাম্পশায়ারের ভূ-তাত্ত্বিকরা ‘শার্প এবং ক্যারি মতবাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। আশির দশকের শেষ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তারা সাতটি ডেথ ভ্যালি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এম স্ট্যানলের আইস-সিট মতবাদকে সমর্থন করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

