জলভালুক

খাবার না খেয়েও ৩০ বছর বাঁচে যে প্রাণী

ফাতিমা মাহমুদ

খাবার না খেয়েও ৩০ বছর বাঁচে যে প্রাণী

এই ফিচারটির শিরোনাম দেখে নিশ্চয়ই খুব অবাক লাগছে, তাই না—খাবার না খেয়েও জলভালুক (Water Bear) ৩০ বছর বাঁচে! এ কী বিশ্বাস করার মতো কথা? বিশ্বাস তোমাদের করতেই হবে, কারণ সর্বক্ষমতার অধিকারী আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ এমন ক্ষমতা দিয়েই জলভালুক সৃষ্টি করেছেন। শুধু খাদ্য ছাড়া বাঁচাই নয়, আরো অনেক বিস্ময় রয়েছে নাদুসনুদুস চেহারার এই প্রাণীটির মাঝে। টারডিগ্রেড (Tardigrade) অর্থাৎ জলভালুক হচ্ছে অতি ক্ষুদ্র আর সৃষ্টিজগতের এক অতি প্রাচীন প্রাণী। জলভালুকের গোলগাল শরীরটি অনেকটা ভালুকের মতো দেখতে হলে কী হবে, আসলে প্রাণীটি খুবই ক্ষুদ্র। তাই প্রাণীটিকে শুধু মাইক্রোস্কোপ দিয়েই দেখা যায়।

সর্বপ্রথম জলভালুক আবিষ্কার করেন জার্মান বিজ্ঞানী জোহান অগাস্ট এফ্রাইম গোজ, ১৭৭৩ সালে। আবিষ্কারের তিন বছর পর ইতালিয়ান বিজ্ঞানী লাজ্জারো স্পাল্লানজানি প্রাণীটির লাতিন নাম দেন Tardigrada। টারডিগ্রাডা মানে ধীর পদক্ষেপকারী। প্রাণীটি অতি ক্ষুদ্র হলে কী হবে, এদের পা রয়েছে আটটি। জলভালুক পানিতে ভাসমান অবস্থায় থাকে আর বিরূপ আবহাওয়াতেও সুস্থ থাকে। তার চেয়েও আশ্চর্যের ব্যাপার, এই প্রাণী ৩০ বছর পর্যন্ত কোনো ধরনের খাবার না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে। আরো অবাক করার মতো বিষয় হলো, প্রাণীটি শূন্য ডিগ্রি থেকে হাজার ডিগ্রি তাপমাত্রায় বেঁচে থাকে। টারডিগ্রেডের টিকে থাকার লড়াই কিন্তু এখানেই শেষ নয়। কারণ এই প্রাণী মহাকাশেও বেঁচে থাকতে পারে। প্রাণিবিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, খাদ্য না পেলে এদের বিপাকীয় প্রক্রিয়া অনেকটাই থেমে যায়, যা প্রাণীটিকে অনেক বছর বিনা খাদ্যে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

টার্ডিগ্রেড সাধারণত শূন্য দশমিক ৫ মিমি (০.০২ ইঞ্চি) লম্বা হয় যখন সম্পূর্ণভাবে বড় হয়। টারডিগ্রেডের বাসস্থান ডোবা-নালা, নদী-সমুদ্র ও স্থলে ও অন্তরীক্ষে—সব জায়গায়। পৃথিবীর বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চলে এদের দেখতে পাওয়া যায়, যেমন পাহাড়ের চূড়া, গভীর সমুদ্র, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্ট আর অ্যান্টার্কটিকায়। এমনকি বিকিরণের মধ্যেও!

এই প্রাণীটির প্রায় ১ হাজার ৩০০টি পরিচিত প্রজাতি রয়েছে। এটি সুপারফাইলাম একডিসোজোয়া প্রজাতির একটি অংশ। এরা মানুষের শরীরে জন্মায় না এবং মানুষের কোনো ক্ষতিও করে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন