গ্রামের ছেলে রিফাত। আজও ভাবে, একটি শিক্ষাসফরই বদলে দিয়েছে তার জীবন। মফস্বলের ছোট্ট একটি স্কুলে পড়ত রিফাত। তার বাবা ছিলেন কৃষক। সে শুধু বইয়ের পাতায় কিংবা টেলিভিশনের ছবিতে সংসদ ভবন দেখেছে। বিশাল সেই ভবনের ভেতরে কী হয়, তা তার জানা ছিল না। একদিন স্কুলে খবর এলো—জেলার কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে রাজধানী ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হবে। তালিকায় রিফাতের নামও আছে।
ভোরবেলায় বাস ছেড়ে দিল। জানালার পাশে বসে রিফাত দেখল দীর্ঘ রাস্তা, নদী, সেতু আর শহরের উঁচু উঁচু ভবন। সবচেয়ে বেশি বিস্মিত হলো সংসদ ভবন দেখে। গাইড বললেন, ‘এখানেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ আইন তৈরি হয়। মানুষের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’
রিফাত চুপচাপ শুনছিল। অধিবেশন কক্ষের দিকে তাকিয়ে তার মনে হলো—কত বড় বড় মানুষ এখানে বসেন! কিন্তু হঠাৎ তার মনে আরেকটি প্রশ্ন জাগল। সে বলল, ‘স্যার, গ্রামের কোনো ছেলেমেয়েও কি একদিন এখানে বসতে পারে?’
শিক্ষক হেসে বললেন, ‘অবশ্যই পারে। সততা, পরিশ্রম আর যোগ্যতা থাকলে যে কেউ দেশের দায়িত্ব নিতে পারে।’
সেদিন সংসদ ভবনের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে রিফাত অনেকক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিল। তার মনে হচ্ছিল, স্বপ্ন আসলে খুব দূরের কিছু নয়।
বাড়ি ফিরে রিফাত আরো মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা শুরু করে।
অনেক বছর পরে, এক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে সাংবাদিকরা রিফাতকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার বড় হওয়ার স্বপ্নের শুরু কোথায়?’
রিফাত মৃদু হেসে বলল, ‘একদিন সংসদ ভবন দেখতে গিয়েছিলাম। সেদিন বুঝেছিলাম, দেশের ভবিষ্যৎ গড়েন যারা, তারা কোনো ভিন্ন গ্রহ থেকে আসা মানুষ নন। তারা আমাদেরই মতো সাধারণ মানুষ। সেই দিনই আমি বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শিখেছিলাম।’
সাংবাদিকরা লিখলেন, ‘একটি শিক্ষাসফর বদলে দিয়েছিল একটি শিশুর জীবন।’
আর রিফাত মনে মনে ভাবল, একটি শিশুকে স্বপ্ন দেখানো কখনো ছোট কাজ নয়; কারণ আজকের স্বপ্নবাজ শিশুই আগামী দিন দেশ গড়বে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

