ধূমপান হৃদরোগের অন্যতম বড় ঝুঁকির কারণ তবে এটি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। সিগারেটের ধোঁয়া রক্তনালীর ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, ফলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রভাব প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং অজান্তেই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে ইতিবাচক দিক হলো, ধূমপান বন্ধ করার পর অল্প কিছু সপ্তাহের মধ্যেই হৃদযন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করে।
হৃদযন্ত্রের ওপর ধূমপানের প্রভাব
বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হৃদরোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান সরাসরি ধমনিতে প্লাক জমা, রক্ত জমাট বাঁধা এবং রক্তনালীর ক্ষতি ঘটায়। এমনকি যারা অল্প পরিমাণে সিগারেট খান, তারাও হৃদরোগের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন কিছু ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি ২ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন ধূমপান ত্যাগ করলে হৃদরোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। নিচে ধূমপান কীভাবে হৃদযন্ত্র ও রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তা তুলে ধরা হলো:
১. রক্তনালীর ভেতরের আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়
রক্তনালীর অভ্যন্তরের পাতলা স্তর (এন্ডোথেলিয়াম) রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা হাজারো বিষাক্ত রাসায়নিক যেমন নিকোটিন ও কার্বন মনোক্সাইড এই স্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে ধমনীর ভেতর অমসৃণতা তৈরি হয়, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল সহজে জমে এবং ধীরে ধীরে ধমনী সরু হয়ে যায়।
২. রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে
ধূমপান প্লেটলেটকে বেশি আঠালো করে তোলে, ফলে রক্ত দ্রুত জমাট বাঁধে। এই অস্বাভাবিক জমাট হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এমনকি একটি সিগারেটও সাময়িকভাবে এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৩. হৃদযন্ত্রে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়
কার্বন মনোক্সাইড রক্তের হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে শক্তভাবে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহন বাধাগ্রস্ত করে। এতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদপেশী দুর্বল করে তোলে।
৪. রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়
নিকোটিন শরীরের জন্য একটি শক্তিশালী উদ্দীপক। এটি রক্তনালী সংকুচিত করে, হৃদস্পন্দন বাড়ায় এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। এর ফলে হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং হার্ট ফেইলিউরের ঝুঁকি তৈরি হয়।
৫. দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ সৃষ্টি করে
ধূমপানের ফলে শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ দেখা দেয়, যা ধমনীর দেয়ালে কোলেস্টেরল জমা বাড়ায়। পাশাপাশি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বেড়ে গিয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।
৬. কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করে
ধূমপান ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায় এবং উপকারী এইচডিএল কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়। এর ফলে ধমনীর ভেতর অস্থিতিশীল প্লাক তৈরি হয়, যা হঠাৎ ফেটে গিয়ে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
৭. হৃদপেশী দুর্বল হয়ে পড়ে
দীর্ঘদিন ধূমপান করলে কার্ডিওমায়োপ্যাথির মতো অবস্থা তৈরি হতে পারে, যেখানে হৃদযন্ত্র বড় বা দুর্বল হয়ে যায়। অক্সিজেনের ঘাটতি, দীর্ঘস্থায়ী চাপ এবং বিষাক্ত পদার্থের প্রভাবে এই সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে।
ধূমপান শুধু ফুসফুস নয়, আপনার হৃদযন্ত্রের জন্যও নীরব ঘাতক। তবে সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিলে ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। আজই ধূমপান ছেড়ে দিলে আপনার হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার পথে বড় একটি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র: ইন্টারনেট
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

