হাম সাধারণত ঠান্ডা-কাশি ও জ্বরের মাধ্যমে শুরু হয়ে শিশুদের মধ্যে বিশেষভাবে সংক্রামক হতে পারে। এই রোগে আক্রান্ত হলে শিশুর খাবারের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক খাবার নির্বাচন তাদের দ্রুত সুস্থতার পথে সহায়তা করে এবং কিছু খাবার এড়িয়ে চললে তাদের আরোগ্য লাভের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
হাম রোগে আক্রান্ত শিশুকে কী খাওয়াবেন?
১. পুষ্টিকর তরল খাবার: হাম রোগের সময়ে শিশুর শরীর প্রচুর পরিমাণে পানির প্রয়োজন হয়, তাই তাদের ডিহাইড্রেশন এড়াতে পর্যাপ্ত তরল খাবার প্রদান করতে হবে। ফলের রস, স্যুপ ইত্যাদি শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে।
২. ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার: হাম রোগে আক্রান্ত শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খুবই উপকারী। কমলা, আমলকি, পেঁপে, স্ট্রবেরি ইত্যাদি খাবার শিশুদের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।
৩. দুধ ও দই: দুধ ও দই শিশুর পেটের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো। এটি তাদের পেটের ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে।
৪. সুষম খাদ্য: সুষম খাদ্য যেমন ভাত, রুটি, সবজি ও মাংসের স্যুপ শিশুদের শক্তি প্রদান করে এবং দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।
হাম রোগে আক্রান্ত শিশুকে কোন খাবার এড়িয়ে চলবেন?
১. তেল-মশলা ও জাঙ্ক ফুড: হাম রোগে শিশুর পেট অনেক বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত তেল-মশলা ও জাঙ্ক ফুড যেমন ফাস্ট ফুড, চিপস, ফ্রাইড খাবার ইত্যাদি শিশুর সমস্যা বাড়াতে পারে এবং হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
২. খাদ্য যা সহজে হজম হয় না: কাঁচা সবজি, মাংসের কিছু অংশ, বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার শিশুর পেটের জন্য খারাপ হতে পারে।
৩. খাবারে অতিরিক্ত মিষ্টি: হাম রোগে শিশুর শরীর দুর্বল হয়ে থাকে, তাই তাদের বেশি মিষ্টি খাওয়ানো উচিত নয়। অতিরিক্ত চিনির কারণে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর ওপর চাপ পড়ে, যা সুস্থ হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
৪. দুগ্ধজাত পণ্য অতিরিক্ত: যদিও দুধ এবং দই ভালো, তবে কিছু শিশুর হাম রোগের সময়ে দুধ হজমে সমস্যা হতে পারে, ফলে একে বেশি পরিমাণে দেওয়া উচিত নয়।
হাম রোগে আক্রান্ত শিশুর জন্য সঠিক খাবারের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিকর, হালকা, এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার তাদের দ্রুত সুস্থতার জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে, খাবারের ক্ষেত্রে একটু সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বন করলে রোগটি মোকাবেলা করা অনেক সহজ হয়ে উঠবে। এই সময়ে বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে শিশুর শারীরিক অবস্থা লক্ষ্য রেখে তাদের সঠিক খাবার প্রদান করা এবং ভুল খাবার থেকে বিরত থাকা।
সূত্র : ইন্টারনেট
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

