বিএআইএমএ আলোচনা সভায় বক্তারা

সরকারি সহায়তা পেলে দেশেই ওষুধের অধিকাংশ কাঁচামাল উৎপাদন সম্ভব

সরকারি সহায়তা পেলে দেশেই ওষুধের অধিকাংশ কাঁচামাল উৎপাদন সম্ভব

দেশে হাজারের বেশি ওষুধের কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। যেখানে ওষুধ রপ্তানি আয়ের বড় একটি অংশই চলে যায়। তবে সরকারি সহায়তা পেলে দেশে অধিকাংশ কাঁচামাল উৎপাদন সম্ভব বলে জানিয়েছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ওষুধ শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল তথা অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টের (এপিআই) বিকাশ এবং স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মতো নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের এপিআই খাতকে এগিয়ে নেওয়া: সরকারের সমর্থন ও স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন সংশ্লিষ্টরা। অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ এপিআই অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএআইএমএ) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

আলোচনায় বিএআইএমএর সভাপতি এস এম সাইফুর রহমান ওষুধের কাঁচামাল শিল্পের সংকট ও সম্ভাবনা উপস্থাপুত প্রবন্ধে বলেন, দেশে বর্তমানে ১০ থেকে ১৫টি কোম্পানি প্রায় ৭০ ধরনের ওষুধের কাঁচামাল তৈরি করে। অথচ প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার, যা এখনও আমদানিনির্ভর। সরকারের নীতি সহায়তা ও আর্থিক প্রণোদনা পেলে এসব কাঁচামালের অধিকাংশই দেশেই উৎপাদন সম্ভব। এমনকি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ২ বিলিয়ন ডলারের কাঁচামাল রপ্তানিও সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন জরুরি। জুটশিল্পের মতো এ শিল্পেও একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাসও পাওয়া গেছে।

সাইফুর রহমান জানান, প্রতিবছর ভারত এপিআই শিল্পে উদ্যোক্তাদের প্রায় ২১ হাজার ৯৪০ কোটি রুপি সহায়তা দেয়। চীন সরকার নিজ অর্থায়নে এ খাত গড়ে তুলেছে। আমাদের দেশেও একই রকম নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও এপিআই শিল্পের বিকাশ অত্যন্ত জরুরি। ২০১৮ সালে এ খাতে ১৮ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছিল। তবে কোভিড-১৯ এবং নানা জটিলতায় রপ্তানি কমে গেছে। ভারত যদি ৩০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে পারে, আমরা চাইলে সহজেই ২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করতে পারি। এ জন্য আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত সহায়তা প্রয়োজন। এনবিআরের মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের ভ্যাট ও ট্যাক্স রিফান্ড নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। এছাড়া তিনি পোশাক খাতের মতো ‘লো কষ্ট রিফাইন্যান্স’ সুবিধা দেওয়ারও আহ্বান জানান।

বিএআইএমএর কার্যনির্বাহী সদস্য ও গণস্বাস্থ্য ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম জামালউদ্দিন বলেন, সরকারের সহযোগিতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতির কারণে এখনো দেশে শক্তিশালী এপিআই শিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতিবছর দেড় থেকে দুই বিলিয়ন ডলারের এপিআই পণ্য আমদানি করতে হয়। এর ৫০ শতাংশ দেশেই উৎপাদন সম্ভব, যদি সরকার আন্তরিক হয়। তিনি এ খাতের পণ্যের আমদানিতে কর বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি রাশেদ রাব্বি বলেন, এই খাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত ব্যাপক। নীতিগত সহায়তা পেলে আমদানি নির্ভরতা কমবে। ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে ব্যক্তি উদ্যোগে এই খাতে বিনিয়োগ করছে। যদি দেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ কাঁচামাল দেশেই উৎপাদন করা যায়, তাহলে ওষুধ শিল্পে আমদানি নির্ভরতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন