মাথা ব্যথায় চা-কফি কতটা উপকারী, কখন হতে পারে ক্ষতির কারণ?

মাথা ব্যথায় চা-কফি কতটা উপকারী, কখন হতে পারে ক্ষতির কারণ?

ব্যস্ত জীবনযাপন, কর্মক্ষেত্রের চাপ, দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, ঘুমের ঘাটতি কিংবা মানসিক চাপ—এসব কারণে মাথা ব্যথা অনেকের নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। মাথা ধরলেই কেউ কেউ এক কাপ গরম চা, আবার কেউ কফির ওপর নির্ভর করেন। এমনকি নিয়মিত কফি পান করেন এমন অনেকের ক্ষেত্রে সকালে কফি না খেলেও মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

তবে মাথা ব্যথা কমাতে চা বা কফি কতটা কার্যকর? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি নির্ভর করে মাথা ব্যথার ধরন, ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ এবং ব্যক্তির দৈনন্দিন অভ্যাসের ওপর।

ক্যাফেইন কেন মাথা ব্যথা কমাতে পারে

চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন একটি প্রাকৃতিক উত্তেজক উপাদান। এটি মস্তিষ্কের রক্তনালির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। মাইগ্রেনের প্রাথমিক পর্যায় কিংবা টেনশন-টাইপ মাথা ব্যথার ক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণ ক্যাফেইন কিছু মানুষের ব্যথা কমাতে সহায়তা করতে পারে।

এ কারণেই কিছু ওভার-দ্য-কাউন্টার ব্যথানাশক ওষুধে ক্যাফেইন ব্যবহার করা হয়। ক্যাফেইন এসব ওষুধের কার্যকারিতা বাড়িয়ে ব্যথা দ্রুত উপশমে সহায়তা করতে পারে। তবে সবার শরীরে ক্যাফেইনের প্রভাব এক রকম নয়।

অতিরিক্ত ক্যাফেইনে বাড়তে পারে মাথা ব্যথা

মাথা ব্যথা হলেই বারবার চা বা কফি পান করলে দ্রুত আরাম মিলবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে রিবাউন্ড হেডেক বা ওষুধ-অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত মাথা ব্যথার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

নিয়মিত বেশি পরিমাণে চা বা কফি পান করলে শরীর ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারে। ফলে হঠাৎ ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দিলে বা বন্ধ করলে উইথড্রয়ালের কারণে মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও বিরক্তিভাব দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ যে ক্যাফেইন একসময় মাথা ব্যথা কমাতে সহায়তা করছিল, অতিরিক্ত অভ্যাসের কারণে সেটিই পরবর্তী সময়ে ব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সব ধরনের মাথা ব্যথায় কফি সমাধান নয়

সব ধরনের মাথা ব্যথায় চা বা কফি সমানভাবে কার্যকর নয়। পানিশূন্যতা, উচ্চ রক্তচাপ, সাইনাসের সমস্যা, সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনো শারীরিক অসুস্থতার কারণে মাথা ব্যথা হলে শুধু কফি পান করে সমস্যার সমাধান হবে না।

আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্যাফেইন উদ্বেগ বাড়াতে, হৃদস্পন্দন দ্রুত করতে কিংবা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এসব কারণেও মাথা ব্যথা বেড়ে যেতে পারে।

মাথা ব্যথা হলে যা করতে পারেন

মাথা ব্যথা শুরু হলে প্রথমে শরীরে পানিশূন্যতা রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং সম্ভব হলে কিছুক্ষণ শান্ত ও কম আলোযুক্ত পরিবেশে বিশ্রাম নিন।

দীর্ঘ সময় মোবাইল, কম্পিউটার বা টেলিভিশনের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলেও চোখ ও মস্তিষ্কের ওপর চাপ পড়তে পারে। তাই মাথা ব্যথার সময় কিছুক্ষণ স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা উপকারী।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় খালি পেটে না থেকে সময়মতো স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলেও অনেকের মাথা ব্যথা হতে পারে।

যেসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি

হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। মাথা ব্যথার সঙ্গে জ্বর, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বারবার বমি, হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা বলতে সমস্যা কিংবা চোখে ঝাপসা দেখার মতো উপসর্গ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

এ ছাড়া নিয়মিত মাথা ব্যথা হলে, ব্যথানাশক ওষুধ গ্রহণের পরও ব্যথা না কমলে কিংবা মাথা ব্যথার ধরন হঠাৎ পরিবর্তিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পরিমিত ক্যাফেইনই ভালো

মাথা ব্যথার শুরুতে এক কাপ চা বা কফি কিছু মানুষের সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে এটিকে মাথা ব্যথার স্থায়ী চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে বরং মাথা ব্যথার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তাই মাথা ব্যথা নিয়ন্ত্রণে পরিমিত চা-কফি পান করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার গ্রহণ এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন