স্মার্টফোনে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ কতটা ক্ষতিকর

আরিফ বিন নজরুল

স্মার্টফোনে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ কতটা ক্ষতিকর

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংকিং, ভিডিও দেখা, ছবি তোলা, কেনাকাটা সবকিছুই এখন একটি ডিভাইসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু অনেক ব্যবহারকারীই জানেন না, ফোনের পর্দা বন্ধ থাকলেও অনেক অ্যাপ নীরবে কাজ করে যেতে থাকে। এই অ্যাপগুলো বলা হয় ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ। এগুলো আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে স্মার্টফোনের কর্মক্ষমতা, ব্যাটারি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক অ্যাপ ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকে। তারা নিয়মিত ইন্টারনেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে। নতুন নোটিফিকেশন সংগ্রহ করে। লোকেশন আপডেট নেয় কিংবা বিভিন্ন তথ্য সিংক্রোনাইজ করে। এর ফলে ফোনের প্রসেসর ও র‍্যাম নিয়মিত ব্যস্ত থাকে। ব্যবহারকারী সরাসরি কিছু না করলেও ডিভাইসের ভেতরে চলতে থাকে অসংখ্য প্রক্রিয়া, যা ধীরে ধীরে স্মার্টফোনের গতি কমিয়ে দিতে পারে। ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ে ব্যাটারির ওপর। অনেকেই অভিযোগ করেন, নতুন ফোন কেনার কয়েক মাস পরই ব্যাটারি দ্রুত শেষ হতে শুরু করে। এর-একটি বড় কারণ হলো অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম। আবহাওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন শপিং বা গেমিং অ্যাপগুলোর অনেকগুলোই নিয়মিত ডেটা আদান-প্রদান করে। ফলে ফোন ব্যবহার না করলেও ব্যাটারি চার্জ ধীরে ধীরে কমতে থাকে। মোবাইল ডেটা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক সময় ব্যবহারকারী অবাক হয়ে দেখেন, মাসের মাঝামাঝি সময়েই ইন্টারনেট প্যাকেজ শেষ হয়ে গেছে। কারণ অনেক অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছবি, ভিডিও, আপডেট বা অন্যান্য তথ্য ডাউনলোড করতে থাকে। বিশেষ করে, সীমিত ডেটা প্যাকেজ ব্যবহারকারীদের জন্য এটি বাড়তি খরচের কারণ হতে পারে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা। অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে লোকেশন, ব্যবহার অভ্যাস, সার্চ ইতিহাস বা অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে। যদিও সব অ্যাপ খারাপ উদ্দেশ্যে এটি করে না। তবু অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অনেক সময় ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না। কোন অ্যাপ কতটা তথ্য সংগ্রহ করছে এবং তা কোথায় ব্যবহার হচ্ছে। ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপের আরেকটি গোপন ক্ষতি হলো অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন। যখন একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে সক্রিয় থাকে, তখন প্রসেসরের ওপর চাপ বাড়ে। এর ফলে ফোন গরম হতে শুরু করে, যা দীর্ঘ মেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্য এবং হার্ডওয়্যারের স্থায়িত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত তাপ শুধু কর্মক্ষমতা কমায় না। বরং ডিভাইসের আয়ুও কমিয়ে দিতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ করে দিতে হবে। কিছু অ্যাপের ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম প্রয়োজনীয়। যেমন : ই-মেইল, মেসেজিং বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত অ্যাপগুলো তাৎক্ষণিক তথ্য প্রদানের জন্য ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে। তাই মূল বিষয় হলো প্রয়োজনীয় এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত অ্যাপ ব্যবহারের পর্যালোচনা করা। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল করা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাকটিভিটি সীমিত করা স্মার্টফোনের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়ক। একই সঙ্গে অ্যাপ পারমিশন পরীক্ষা করা এবং শুধু বিশ্বস্ত উৎস থেকে অ্যাপ ইনস্টল করাও জরুরি।

বিজ্ঞাপন

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, স্মার্টফোনের ধীরগতি। দ্রুত ব্যাটারি শেষ হওয়া বা অস্বাভাবিক ডেটা খরচের পেছনে অনেক সময় ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপই দায়ী থাকে। তাই শুধু নতুন ফোন কেনাই সমাধান নয়। বরং ফোনের ভেতরে কী চলছে, সে বিষয়ে সচেতন হওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির সুবিধা পুরোপুরি উপভোগ করতে চাইলে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপের এই অদৃশ্য জগৎ সম্পর্কে জানা এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ রাখা আজ সময়ের দাবি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...