এই সিজারের যুগে এক অনন্য উদাহরণ স্থাপন করেছেন কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মেহেরুন নেহার লিলি। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাজিপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকটি এখন গর্ভবতী মায়েদের ভরসার ঠিকানা। এর পেছনে রয়েছেন সিএইচসিপি মেহেরুন নেহার লিলি। এক দশকে তিনি প্রায় ১ হাজার ৫০০-এর বেশি প্রসূতির স্বাভাবিক প্রসব করিয়ে এলাকায় সবার আস্থা অর্জন করেছেন।
সরেজমিনে ক্লিনিকটিতে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকর্মী লিলি রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। শিশুদের নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসেছেন অনেক মা। তিনি গর্ভবতী মায়েদের পরামর্শ দিচ্ছেন। যাদের ওষুধ প্রয়োজন, তাদের ওষুধও দিচ্ছেন। ১৯৯৮ সালে বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের কাজিপাড়া গ্রামে ক্লিনিকটি প্রতিষ্ঠিত হয়। জমি দিয়েছিলেন স্থানীয় রমিনা খাতুন। এ ক্লিনিক থেকে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব ২০ কিলোমিটার এবং জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। গর্ভবতী মায়েদের প্রসববেদনা উঠলেই তারা ছুটে আসেন মেহেরুন নেহার লিলির কাছে। এতে হাতের নাগালেই স্বাভাবিক প্রসবের সুবিধা পাওয়ায় যেমন অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় শহরের হাসপাতালেও যেতে হচ্ছে না। গ্রামের নারীদের কাছে এই স্বাস্থ্যকর্মী ‘লিলি আপা’ নামে পরিচিত।
জানা গেছে, ২০১১ সালে মেহেরুন নেহার লিলি কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। যোগদানের পর তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া শুরু করেন। ২০১৪ সালে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে কমিউনিটি স্কিল বার্থ অ্যাটেনডেন্ট (সিএসবিএ) বিষয়ে ছয় মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এরপর ২০১৫ সালে স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি স্বাভাবিক প্রসব করানোর কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথম প্রসব করানোর সময় তিনি অত্যন্ত ভীত ছিলেন। তবে মাত্র এক ঘণ্টার চেষ্টায় সফলভাবে একটি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন করার পর থেকেই তার কাজের প্রশংসা গ্রাম থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষ খুঁজে পায় আস্থার নতুন ঠিকানা। গত আট বছরে তিনি প্রায় ১ হাজার ৫০০-এর বেশি স্বাভাবিক প্রসব করিয়ে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ক্লিনিকটি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ক্লিনিক হিসেবে পুরস্কারও পেয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মী মেহেরুন নেহার লিলি বলেন, ‘প্রথম প্রথম আমার প্রচণ্ড ভয় লাগত। ভাবতাম, আমার দ্বারা এত জটিল কাজ কীভাবে সম্ভব হবে। ফরিদা আক্তার নামে এক নারীর প্রথম প্রসব সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই আমার সাহস বেড়ে যায়। কনকনে শীত কিংবা বৃষ্টির মধ্যে ভিজে সারারাত পরিশ্রম করে যখন একজন গর্ভবতী মায়ের কোলজুড়ে নবজাতক আসে, তখন সব কষ্ট ভুলে যাই।’ প্রচারবিমুখ মেহেরুন নেহার লিলি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

