বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী। রাস্তায় নেমে আসে নিরস্ত্র অসংখ্য মানুষ। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের অস্ত্রধারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপথগামী কতিপয় সদস্য আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে মুহুর্মুহ গুলি চালায়। গুলির শব্দে গোটা এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
৫ আগস্ট। বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নেমে আসে। অবস্থান নেয় প্রধান প্রধান সড়কসহ যাত্রাবাড়ী থানাসংলগ্ন এলাকায়। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি বিদ্ধ হয়ে শহীদ হন পিকআপচালক শাহীন। তিনি টাইলস রোডের ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন করতেন। যাত্রাবাড়ীতেই বাবা-মা ও পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন তিনি। শাহীনের গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখানের দক্ষিণ জয়নগরে।
বিচার দাবি
জুলাই বিপ্লবে শহীদদের গত দুই বছরেও বিচার না হওয়ায় হতাশ তার পরিবার। শাহীনের বাবা আবদুল মাজেদ আমার দেশকে বলেন, ‘আমরা আমাদের সন্তানকে হারিয়েছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবরা জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত প্রতিটি হত্যার বিচার চাই। দ্রুত এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। আমরা চাই পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে এনে বিচার করা হোক।
কষ্টে আছে পরিবার
সন্তান হারিয়ে কষ্টে চলছে তার পরিবার। শাহীনের দৈনন্দিন কামাইর উপর নির্ভর করে চলত বাবা -মা, ভাই -বোন, স্ত্রী- সন্তানসহ আট সদস্যের পরিবার। সন্তান হারিয়ে তার মা-বাবা চলে আসেন উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর গ্রামে। আশ্রয় নেন আত্মাীয়স্বজনের বাড়িতে। নিঃস্ব অসহায় ভিটেমাটিহীন দিনমজুর মা-বাবার জীবন কাটছে খেয়ে না খেয়ে খুবই কষ্টে।
শাহীনের বাবা-মায়ের বক্তব্য
বাবা আবদুল মাজেদ বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কোনো সহযোগিতা পাই না।’ শাহীনের স্ত্রী স্বপ্না দুই সন্তান নিয়ে যাত্রাবাড়ীতে ভাড়া বাসায় থাকেন। সরকার থেকে পাওয়া ১০ লাখ টাকা দিয়ে ১৬ শতাংশ জমি ও একটি অটোরিকশা কিনেছেন। ঘর তুলতে পারেননি। এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকেন। সম্প্রতি ছোট মেয়ে সীমার বিয়ে হয়েছে। অভাবের সংসার। টাকার অভাবে এখনো মেয়েকে তুলে দিতে পারেননি। দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
স্মৃতিচারণ
জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মা মাজেদা খাতুন বলেন, ‘আমার বড় ছেলে ১৮ বছর আগে মারা গেছে। শহীনকে নিয়ে স্বপ্ন ছিল। আমার পরিবারের অনেক আশা-ভরসা ছিল। বউ নাতি-নাতনি নিয়ে একসাথে ছিলাম। ওর বউ স্বপ্না ঢাকায় ভাড়া বাসায় থাকে। এখন আমার সেই স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। আন্দোলনে গিয়ে দেশের জন্য আমার ছেলে শহীদ হয়েছে। আল্লাহ যেন হত্যাকারী সেই সরকারের বিচার করে।’
সহযোগিতা
স্থানীয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থার কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না।
মামলা দায়ের
জুলাই হত্যাকাণ্ডে যাত্রাবাড়ী থানায় দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলার কোনো অগ্রগতি নেই।
এমপির সহযোগিতা
স্থানীয় এমপি হাফিজ ইব্রাহিমের কাছে অনেকবার গিয়েছি। কষ্টের কথা জানিয়েছি। তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের তো সরকারিভাবে সহায়তা করা হচ্ছে।
আবেদন
সরকারের কাছে আমাদের আবেদন শহীদ পরিবারের যেন খোঁজ নেওয়া হয়। আর্থিক সাহায্য অসহযোগিতা করা হয়।
শাহিনের পরিবারের গর্ব
আমাদের সন্তান ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে শহীদ হয়েছে। আমরা কষ্টে আছি তবুও আমাদের গর্ব, আমাদের পরিচয় আমরা জুলাই শহীদ পরিবার।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

