বাঙালির প্রাণের মেলা ইতোমধ্যে জমে উঠেছে। গতকাল শনিবার ছুটির দিনে মেলায় জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। মেলায় আসা বইপ্রেমীদের তাদের পছন্দের বইটি কিনতে স্টলে স্টলে ভিড় করতে দেখা গেছে। মেলার অষ্টম দিন নতুন বই জমা পড়ে ১০২টি। এর আগে সপ্তম দিন জমা পড়েছিল ১৮৪টি বই। গত আট দিনে মোট ৫৫৬টি বই জমা পড়ে।
সরেজমিন মেলাপ্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, ঐতিহ্য প্যাভিলিয়নে জুলাই বিপ্লবের বইগুলো বেশি চলছে। লেখক সাব্বির জাদিদের জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে লেখা ‘একটি গোলাপের জন্য’ বইটি পাঠক চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। এ ছাড়াও তরুণ পাঠকদের কাছে জায়গা করে নিয়েছে মাসুদ শরীফের ‘ডোপামিন ডিটক্স’ বইটি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনের জুলাই চত্বরে বুক সেলফে থাকে থাকে রাখা হয়েছে বিশালাকার বইগুলো। ওই প্যাভিলিয়নের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে দেখা গেল তরুণ-তরুণী পাঠকদের।
দি রয়েল পাবলিশার্স স্টলটির ডিজাইন করা হয়েছে জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি দিয়ে। অনেককে দেখা গেল বিপ্লবের বইগুলো নেড়েচেড়ে দেখতে। অনেকে বই হাতে নিয়ে সেলফি তুলে শহীদদের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ঘটাচ্ছেন। রয়েল থেকে প্রকাশ হয়েছে আহমদ মতিউর রহমানের জুলাই বিপ্লবের ওপর লেখা তিনটি বই। এর মধ্যে ‘আমি বিজয় দেখেছি ৩৬ জুলাই’ ও ‘ছাত্র জনতার অভ্যুত্থান ২০২৪’ ভালো চলছে। অপর বই ‘দেশ কাঁপানো ২৩ দিন’-এরও বিক্রি ভালো।
প্রকাশক জামাল উদ্দিন আহমেদ জানালেন, ইতিহাসকে ধারণ করার জন্য এ উদ্যোগ। পাঠকের সাড়া পেয়ে ভালো লাগছে। অন্য কয়েকটি স্টলেও দেখা গেল বিপ্লবের বই নিয়ে পাঠকের আগ্রহ বেশ।
মেলাপ্রাঙ্গণে গতকালও তরুণীরা সেজেগুজে শাড়ি পরে মেলায় এসেছেন। অনেকেই মাথায় ফুলের রিং,গলায় মালা ও গাদাফুলের মালা পরেছিলেন। বইয়ের আদলে তৈরি করা দৃষ্টিনন্দন পুঁথিনিলয় প্যাভিলিয়নের সামনে দর্শনার্থীদের ছবি তুলতে দেখা গেল। এ ছাড়াও অনন্যা, পাঞ্জেরী পাবলিকেশস্ লি.-এর সামনেও ছবি তুলতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের।
জনপ্রিয় প্রকাশনীর প্রকাশক মোহাম্মদ সোলায়মান হোসেন আমার দেশকে জানান, ক্রমেই বইমেলা জমে উঠছে। আশার কথা হলো এবার মেলায় শিশুরা আসছে। আগ্রহ নিয়ে বই দেখে তাদের পছন্দের বইটি কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও তার স্টলে শরবিন্দু শেখর চাকমার ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উপনিবেশ আমল এবং স্বাধীনতা আমল’ বইটি মধ্যম বয়সি পাঠকরা কিনছেন। এ ছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের সহধর্মিণী মিলি রহমান সম্পাদিত ‘বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর স্মারক গ্রন্থটির’ বিক্রিও ভালো।
ইসলামি বইগুলো এবারকার মেলায় ক্রেতা চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। বিশেষ করে নবী-রাসূল এবং সাহাবিদের জীবন নিয়ে লেখা বইগুলোর চাহিদাও বেশি।
দোলন প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কামাল মুস্তফা বলেন, শুক্রবার থেকে মেলায় পাঠকরা আসতে শুরু করেছেন। বইয়ের বিক্রি ভালো হচ্ছে। তার স্টল ছোটদের বই দিয়ে সাজানো। মাসুম আওয়ালের ‘আমার বর্ণমালা’ নামের চারটি সিরিজ চলছে। এটির দাম ৪৫০ টাকা। এ ছাড়াও ছোটদের বই সাফিয়া খন্দকার রেখার ‘ইলিশ খেকো ভূত’, অরুণ বর্মূণের ‘ভূতের সভায় আইনস্টাইন’, ফারুক হোসেনের ‘অফিস অফিস খেলা’ রইস মনরমের ছড়ার বই ‘সোনার কাঠি রূপোর কাঠ’, রেজাউল করিমের ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ ছোটগল্প বইটি বেশি চলছে। এগুলোর দাম ১১৫ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে।
কামাল মুস্তফা জানান, আরো ১৫টি বই মেলায় আসার অপেক্ষায়। প্রেসে কাজ চলছে। এ বইগুলো এলে তাদের বিক্রি আরো অনেক বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পাতা প্রকাশনীর স্টলে জাহিদুন্নবীর লেখা ‘নীল স্পর্শ’ বইটি তরুণ পাঠকদের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে। ১৯৭২ থেকে ’৭৬ সাল পর্যন্তু হুমায়ূন আহমেদের তার ছাত্রীকে লেখা প্রেমের চিঠি নিয়ে ড. ইসমাত মির্যার লেখা ‘পরী ও কিছু চিঠি’ বইটি মেলায় বেশ চলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


