আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বিদ্রোহ মোকাবিলার দায়িত্বরত সেনাপতিদের কাছে খলিফার চিঠিপত্র

আহমদ ফাহমি

বিদ্রোহ মোকাবিলার দায়িত্বরত সেনাপতিদের কাছে খলিফার চিঠিপত্র

খালিদের চিঠি ও খলিফা আবু বকরের উত্তর :

রিদ্দাহ ও ধর্মদ্রোহ বিরোধী যুদ্ধে খালিদ (রা.) ভণ্ডনবী তুলাইহা ইবনে ‍খুওয়াইলিদের প্রতিপক্ষ ছিলেন। তার শক্তির উৎস ছিল তায়ি ও গাতফান গোত্রের লোকরা। বুজাখায় তুলাইহার বিরুদ্ধে খালিদ (রা.) যুদ্ধ করছিলেন। তাদের পাশেই ছিল আমের গোত্র। তারা দূরে দাঁড়িয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল। যুদ্ধে যাদের জয় হবে, আমের গোত্র তাদের দলে চলে যাবে। বুজাখার যুদ্ধে তুলাইহার বাহিনী পরাজিত হলো। তুলাইহা পালিয়ে জীবন বাঁচাল। তখন আমের গোত্রের লোকরা খালিদ (রা.)-এর কাছে এসে ইসলাম গ্রহণের কথা বলতে লাগল।

বিজ্ঞাপন

তিনি আমের গোত্রকে শর্ত দিলেন, ধর্মদ্রোহের সময় তাদের গোত্রের যেসব লোক মুসলিমদের সঙ্গে অন্যায় করেছে, তাদের পুড়িয়ে মেরেছে, অঙ্গহানি করেছে, তাদের উপস্থিত করলেই তারা ক্ষমা পাবে। এরপর তিনি সবাইকে ক্ষমা করে দিলেন। শুধু কুররাহ ইবনে হুবাইরাহ ও তার কয়েকজন অনুচরকে বেঁধে রাখলেন। ইসলামের বিরুদ্ধাচারীদের তিনি কঠোর শাস্তি দিলেন। এরপর তিনি কুররাহ ও অন্য বন্দিদের খলিফার কাছে পাঠিয়ে দিলেন এবং খলিফার কাছে চিঠি লিখলেন, ‘আমের গোত্র বিদ্রোহ করার পরে আবার ইসলামে ফিরে এসেছে। তারা আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, সন্ধি করেছে, আমি তাদের থেকে সে সময় কোনো কিছু নিইনি। কিন্তু মুসলিমদের ওপর আক্রমণকারী লোকদের নিয়ে এলো, আমি তাদের প্রত্যেককে উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছি। আর কুররাহ ও তার অনুচরদের আপনার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’

খালিদের চিঠির উত্তরে খলিফা লিখলেন, ‘আপনার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ আরো বৃদ্ধি পাক। আর আপনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করবেন। কারণ নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকি ও সৎকর্মশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা নাহল, আয়াত : ১২৮)

আল্লাহর কাজে দৃঢ়সংকল্প হন, কোনো দুর্বলতা প্রদর্শন করবেন না। মুসলমানদের হত্যা করেছে—এমন কাউকে পেলে তাকে অবশ্যই হত্যা করবেন এবং তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেবেন। আর যে আল্লাহর বিরোধিতা করেছে, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, যার বিষয়ে আপনি মনে করেন, এতে সামগ্রিক কল্যাণ নিহিত রয়েছে, তাকে হত্যা করে ফেলবেন।’ (তারিখে তাবারি, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ২৩৩)

ইকরিমার কাছে খলিফার চিঠি

ইকরিমাকে পাঠানো হয়েছিল, ভণ্ডনবী মুসাইলামার বিরুদ্ধে হানিফা গোত্রের কাছে। তার প্রতি খলিফার নির্দেশ ছিল আপনি গন্তব্যে পৌঁছে শুরাহবিল ইবনে হাসানাহর জন্য অপেক্ষা করবেন। তারপর দুজন একসঙ্গে আক্রমণ চালাবেন। কিন্তু ইকরিমা খলিফার নির্দেশ অমান্য করে একই হামলা করলেন এবং ভীষণভাবে পরাজিত হলেন। তিনি মর্মাহত হলেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে খলিফার কাছে চিঠি লিখলেন। জবাবে খলিফা লিখে পাঠালেনÑ‘ইকরিমা! এবার আপনি যে কাজ করেছেন, ভবিষ্যতে আর কখনো যেন এমন কাজ করতে না দেখি। আপনি মদিনায় ফিরে আসবেন না। সৈনিকদের মনোবল ভেঙে দেবেন না। আপনি বরং সামনে এগিয়ে যান এবং হুজাইফা ও আরফাজাহর বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিন। তাদের সঙ্গে মিলে আপনি ওমান ও মাহরার লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন। আর যদি তারা অন্য কাজে ব্যস্ত থাকে, তবে আপনি নিজেই হামলার জন্য এগিয়ে যাবেন।

এরপর আপনি সৈন্যদের নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকবেন। পথে যাদের পাশ দিয়ে যাবেন, তাদের অবস্থা যাচাই করে দেখবেন। এভাবে চলতে চলতে আপনি ইয়েমেন ও হাদরামাউতে মুহাজির ইবন আবু উমাইয়ার সঙ্গে মিলিত হবেন। (তারিখে তাবারি, খণ্ড : ৩, পৃষ্ঠা : ২৪৩)

তরজমা : আহমদ ফাহমি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...